1. asmaakter99987@gmail.com : Asma Akter : Asma Akter
  2. jannatulsifa9486@gmail.com : BD NEWS 99 :
  3. ohanafariah8@gmail.com : Fariah Jalal Ohana : Fariah Jalal Ohana
  4. help.geniusplug@gmail.com : Geniusplug Technology : Geniusplug Technology
  5. jannatulparash123@yahoo.com : Jannat Parash : Jannat Parash
  6. jannatulsifa236@gmail.com : jannatul sifa : jannatul sifa
  7. kabirtanzim2@gmail.com : Kabir Mahmud : Kabir Mahmud
  8. jakia0702@gmail.com : Kuashabrita Usha :
  9. nilmubdiol@gmail.com : Md Mubdiul Islam : Md Mubdiul Islam
  10. mituakter54402@gmail.com : Mehreen Mitu :
  11. engr.romansarkar@gmail.com : romanbd :
  12. afrinsabrin2019@gmail.com : SABRIN AFRIN :
  13. jannatul.sifa@yahoo.com : Shahjadi Mukti :
  14. soyboliny@gmail.com : Shifat Afrin Semu : Shifat Afrin Semu
  15. suchonaislam23@gmail.com : Shuchona Islam :
  16. ummayjahan3@gmail.com : Tanzina Mim : Tazina MIm
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন

প্রাচ্যের ভ্যানিস বরিশালের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও বিখ্যাত স্থান

  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০
  • ৮৭ বার দেখা হয়েছে

প্রাচ্যের ভেনিস বরিশালের সংক্ষিপ্ত পরিচয় এবং এর পুরাকীর্তি/দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জেনে নিন প্রতিবেদন থেকে।কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত চন্দ্রদ্বীপ বর্তমানে বরিশাল নামে পরিচিত।বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলের অবস্থিত এই বরিশালকে এর সৌন্দয্যের জন্য প্রাচ্যের ভেনিস বলা হয়।এক সময়ের এই সুন্দর শহর কয়েকটি জেলা নিয়ে বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।বরিশাল অন্যতম একটি সুন্দর শহর।দেশের খাদ্য উৎপাদনে বরিশাল জেলা অন্যতম। বরিশালে একটি নদী বন্দর আছে যেটি দেশের অন্যতম বৃহত্তর, গুরুত্বপূর্ণ, ও প্রাচীন নদী বন্দর।

বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন এদেশের অনেক বিখ্যাত সুনামধন্য ব্যক্তি। যারা দেশের বিভিন্ন প্রয়োজনে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন। তাঁরা হলেন-

এ কে ফজলুল হক যাকে শেরে-বাংলা হিসেবে সবাই জানেন।তাঁর অবদান বাংলাদেশ যতদিন টিকে থাকবে ততোদিন এদেশের মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল তিনি এদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত বীর শহীদের মধ্যে একজন।বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরও জন্ম গ্রহণ করেন বরিশাল বিভাগে। সুফিয়া কামাল হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের নারী জাগরণের ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছেন। জীবনানন্দদাশ বাংলা কাব্যের সমৃদ্ধির যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন। কুসুমকুমারী দাশ বাংলা সাহিত্যের একজন জনপ্রিয় মহিলা কবি। এছাড়াও এই বিভাগের আছে আরো অনেক কবি,সাহিত্যক,লেখক,কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ ইত্যাদি। বরিশাল বিভাগে রয়েছে অনেক প্রাচীন নির্দশন।যা ভ্রমণপ্রেমীদের মনের আয়েশ মিটাতে সক্ষম।এবার জেনে নেই বরিশালের কিছু প্রাচীন দর্শনীয় স্থান-

শিবনারায়ণ নামে একজন রাজা চন্দ্রদ্বীপ এলাকার মানুষের পানির অভাব মিটাতে দিঘি খনন করেন।তার মায়ের দূর্গা নামনুসারে এই দিঘির নাম করণ করা হয়। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় প্রায় আড়াই শ বছর আগে,যা এখন চারপাশে আরো বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ‘এ কে ফজলুল হক’ জাদুঘর নির্মান করে সৌন্দয্য বেড়ে যায়।আর এর একটু পাশেই লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি হিসেবে যা দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।

নিন্ম গোত্রে হিন্দুদেরকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করান মিশনারী ধর্মজাজকরা। আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে পর্তুগীজরা এখানে এসে বসতি স্থাপন করে। বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া চাংগুরিয়ার গ্রামেই শিক্ষাঅনুরাগী এস সরফুদ্দিন আহাম্মেদ সান্টু নিজ বাড়ির সামনে ১.৪ একর জমির ওপর এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।২০০৬ সাল থেকে তা সবার জন্য উনমুক্ত করে দেন।বিশ হাজার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই মসজিদের পাশে ঈদগাঁ,গাড়ি পাকিং এর ব্যবস্থা, এতিমখানা, ডাকবাংলো,লেক বা পুকুর, বিভিন্ন ফুলে সুসজ্জিত গাছ রয়েছে। এই মসজিদের কাজ ২ লাখ ১০ হাজার শ্রমিক নিয়োজিত ছিলো।

বরিশাল সদর উপজেলা থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে একটি বিলে দেখা মিলবে চোখ জুড়ানো মনোরম শাপলায় পরিপূর্ণ বিল।দেখে মনে হবে এ যেনো শাপলার রাজ্য।বিলে লতা-পাতা, গুল্ম ভরা বিলে মিলবে চোখ জুড়ানো মনোরম দৃশ্য, যা সূর্য এর লাভাকেও হার মানায়।দেখলে মনে হবে প্রকৃতির বুকে যেনো আঁকা নকশিকাঁথা। এই বিলটি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামে অবস্থিত।স্থানীয়দের কাছে শাপলা বিল নামেই পরিচিত।

এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বাংলাদেশের শৈল্পিক গির্জা গুলোর মধ্যে অন্যতম অক্সফোর্ড মিশন গির্জা।বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলীয় বিভাগীয় শহর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশাল এর বগুড়া রোডে অবস্থিত সুরম্য প্রাচীন স্থাপনা ইপিয়ানি গির্জা,যা সবাই অক্সফোর্ড মিশন গির্জা নামেই চিনে।১৯০৩ সালে এর নির্মান কাজ শুরু হয়ে ১৯০৭ সালে শেষ হয়।গির্জাটি লাল ইটের তৈরি।গির্জাটি সিস্টার এডিথের তৈরি করা নকশায় ফাদার স্ট্রং মূল অাকৃতি দেন।গ্রিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মান করা এই সুন্দর গির্জাটির মধ্যে রয়েছে অনেক বড় প্রার্থনা কক্ষ।প্রাচীন দিয়ে ঘেরা হলেও এর মধ্যে রয়েছে সবুজের সমারোহ।

এই গির্জার সীমানার মধ্যে রয়েছে অঅক্সফোর্ড মিশন স্কুল,সবুজের কার্পেট দিয়ে তৈরি মঠ,হাসপাতাল, ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেল, লাইব্রেরি, খেলার মাঠ,ফুলের বাগান ও বিভিন্ন ধরনের ভেষজ গাছ।গির্জার ভিতরে কাঠ দিয়ে খোদাই করা আর মার্বেল পাথরের খচিত মেঝে ৩৫ একর জমির একাংশে। গির্জাটি একতলা হলেও পাচ তলা সমানের উচ্চতায়।গির্জাটির ভিতরে রয়েছে অনেক সুন্দর ও মনোরম দৃশ্য।এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘন্টা এই গির্জায় রয়েছে,যা দিনে ৭ বার বাজানো হয়।গির্জাতে ৪০ টি খিলানপথ ও অসংখ্য করিডর যা এর কাঠামোকে সুদূর করেছে।দূর থেকে দেখলে মনে হয় রেলগাড়ীর ইঞ্জিন, মনে হয় এই ইঞ্জিনের সুতা ধরেই বিশ্বাসের সাথে স্বর্গে যাওয়া যাবে।

বরিশাল জেলায় অবস্থিত মসজিদ গুলোর মধ্যে অন্যতম বরিশাল সদরে কড়াপুর গ্রামের মিয়াবাড়ির মসজিদ।ধারনা করা হয় মসজিদটি ১৮ শতকে নির্মান করা হয়।সঠিকভাবে দেখা শুনার অভাবে মসজিদটি আর অনেকটা সৌন্দয্য হাড়িয়েছে।সম্প্রতি মসজিদটি মেরামত করে রং কয়া হয়েছে।মিয়াবাড়ির মসজিদটি উঁচু বেসম্যান্টের উপর নির্মান করা হয়েছে। মসজিদটির নীচ তলায় কয়েকটি কক্ষ মাদ্রাসার ছাত্র দের থাকার জন্য করা হয়েছে। মসজিদে প্রবেশ করতে হয় দোতলায় উঠার সিড়ি দিয়ে।আয়তাকার ক্ষেত্রের এই মসজিদটির উপরে তিনটি গম্বুজ রয়েছে।পাশের দুইটি গম্বুজের তুলনায় মাঝখান এর টা কিছুটা বড়।এই মসজিদের সামনে চারটি মিনার আর পিছনের চারটি মিনার মিলে মোট আটটি মিনার রয়েছে।এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদের পাশে অনেক বড় ও সুন্দর একটি পুকুর বা দিঘি রয়েছে।

বরিশাল জেলা সদর এর কাশিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি। এই জমিদার বাড়ি প্রায় ৪০০ বছর আগের পুরাতন। বরিশাল থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার উত্তরে একটু হাটা পথ তারপরেই এই লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি।জমিদার বাড়ির পাশেই রয়েছে কয়েকটি মন্দির।রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে এই বাড়িটি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিনত হয়েছে।এখন এই ৪০০ বছর আগের পুরাতন বাড়িকে কেন্দ্র করে রয়েছে অনেক রহস্য।খোলসা চন্দ্র রায় লিখিত ‘বাকেরগঞ্জ ইতিহাস গ্রন্থ ‘থেকে জানা যায়,এই জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠতা ছিলেন রূপচন্দ্র রায়।এই জমিদার রূপচন্দ্র রায় এর পৌত্র রাজচন্দ্রের রায় সময়ে এই বংশের প্রতিপত্তি বাড়ে।রাজচন্দ্র রায় এই লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি তৈরি করেন।এই জমিদারের বসানো হাটেই এখন বাবুরহাট হিসেবে পরিচিত।তিনি অনেক জনপ্রিয় জমিদার ছিলেন।তিনি প্রজাদের অনেক ভালোবাসতেন।তার সময়েই লাকুটিয়া থেকে বরিশাল পর্যন্ত রাস্তা হয়।অনে বড় করে তিনি রাশ উৎসব পালন করতেন। এই জমিদার বাড়ির সবচেয়ে সুন্দর স্থাপনা হলো চারপাশের মন্দির গুলো।মন্দিরের সবচেয়ে উচু যে শিলালিপি আছে তা থেকে জানা গেছে,অস্টেলিয়া প্রবাসী পঙ্কজ কুমার রায় চৌধুরি তার স্বর্গত সুরেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরি ও মাতা পুষ্পরানী রায় চৌধুরি পুন্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে এটি নির্মান করা হয়েছে।

বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চল এর শহর প্রাচ্যের ভেনিস নামে খ্যাত বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া গ্রামে রয়েছে একেবারে ভগ্ন প্রায় চৌধুরি বাড়ি যা উলানিয়া জমিদার বাড়ি হিসেবেই বেশ পরিচিত।এছাড়াও রয়েছে চাখার প্রত্বতাত্ত্বিক জাদুঘর, কালেক্টর ভবন,শারকলের দূর্গা, সংগ্রাম কেল্লা,রামমোহননেএ সমাধি মন্দির,গির্জা মহল্লা,এবাদুল্লা মসজিদ,শংকর মঠ,আব্দুল রব সেরনিয়াবাদ সেতু,বঙ্গবন্ধু উদ্যান,কীর্তনখোলা নদী, হজরত মল্লিক দূত কুমার শাহ র মসজিদ,কুসাই মসজিদ, মকুন্দ দাশের কালি বাড়ি,অশ্বিনি কুমার টাউন,চারকিল্লা,ভাটি খানার জোড়া মসজিদ ইত্যাদি।এছাড়াও বরিশাল বিভাগের জেলা গুলোতেও রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান।যা আপনার ভ্রমণ পিপাসাকে আয়েশ দিবে।

সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টটি শেয়ার করুন।

এই ক্যাটাগরির আরও পোষ্ট
© All rights reserved © 2020 bdnews99.com