1. asmaakter99987@gmail.com : Asma Akter : Asma Akter
  2. jannatulsifa9486@gmail.com : BD NEWS 99 :
  3. ohanafariah8@gmail.com : Fariah Jalal Ohana : Fariah Jalal Ohana
  4. help.geniusplug@gmail.com : Geniusplug Technology : Geniusplug Technology
  5. jannatulparash123@yahoo.com : Jannat Parash : Jannat Parash
  6. jannatulsifa236@gmail.com : jannatul sifa : jannatul sifa
  7. kabirtanzim2@gmail.com : Kabir Mahmud : Kabir Mahmud
  8. jakia0702@gmail.com : Kuashabrita Usha :
  9. nilmubdiol@gmail.com : Md Mubdiul Islam : Md Mubdiul Islam
  10. mituakter54402@gmail.com : Mehreen Mitu :
  11. engr.romansarkar@gmail.com : romanbd :
  12. afrinsabrin2019@gmail.com : SABRIN AFRIN :
  13. jannatul.sifa@yahoo.com : Shahjadi Mukti :
  14. soyboliny@gmail.com : Shifat Afrin Semu : Shifat Afrin Semu
  15. suchonaislam23@gmail.com : Shuchona Islam :
  16. ummayjahan3@gmail.com : Tanzina Mim : Tazina MIm
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

খুলনা বিভাগের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দর্শনীয় স্থান এবং পুরাকীর্তি

  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০
  • ৫২ বার দেখা হয়েছে

খুলনা বিভাগের সংক্ষিপ্ত পরিচয়, দর্শনীয় স্থান এবং পুরাকীর্তি।বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার খুলনা জেলা বাংলাদেশের ৩য় বৃহত্তম জেলা।এ জেলায় শিল্প, বানিজ্য,প্রকৃতি ও লোকজ সংস্কৃতির এ অভূতপূর্ব মিলন ঘটেছে।ভৈরব,রূপসা,পশুর,চিত্রা,কপোতাক্ষনদ সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নদী বৈচিত্র‍্যএ ভরপুর খুলনা জেলায় রয়েছে জাহাজ নির্মান শিল্প ও চিংড়ি শিল্প।হযরত পীর খানজাহান আলীর (রঃ)স্মৃতি বিজরিত ও ভৈরব ও রূপসা বিধৌত  ইতিহাস ও ঐতিহ্য গৌরব মন্ডিত খুলনা বিভাগ।নামকরণের উৎপত্তি নিয়ে মত বিরোধ হয়েছে খুলনার।তবে বেশিভাগ মানুষেই মনে করে, ‘ধনী সওদাগার এর দ্বিতীয় স্ত্রী খুলনার নামে নির্মিত ‘খুলনেশ্বরী মন্দির’থেকে খুলনা নামের উৎপত্তি।

‘ফলমাউথ’জাহাজের নাবিকের ১৭৬৬ উদ্ধারকৃত রেকর্ডে লিখিত Culnea শব্দ থেকে খুলনা।আবার অনেক বিজ্ঞানীদের মতে,’কিসমত খুলনা’মৌজা হতে খুলনা নামের উৎপত্তি ধারণা করা হয়।আবার আরো অনেকের ধারণা ব্রিটিশ শাসন আমলের মানচিত্রে লিখিত’Jessore-Culna’ শব্দ থেকে খুলনা নাম এসেছে।তবে কোনটা সঠিক তা এখনো গবেষনার বিষয়।খুলনা হচ্ছে প্রথম অবিভক্ত বাংলার মহকুমা।ডেপুটি  মি.শোর ছিলেন খুলনার প্রথম প্রশাসক ছিলেন এবং দ্বিতীয় মহকুমা হাকিম ছিলেন সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘দূর্গেশ নন্দিনী ‘ এই বাস ভবনে বসে লেখেন।১৮৮২ সালের ২৫ এপ্রিল খুলনা জেলা হয় সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী। 

খুলনা জেলা শহর হলেও এখনো সেখানে তেমন জনবসতি গড়ে ওঠে নি।ইতিহাস থেকে জানা যায়,খুলানায় প্রথম জনবসতি গড়ে ওঠে খুলনা শহর থেকে কিছুটা দূরে সেনহাটিতে। খুলনার প্রথম মিউনিসিপ্যালিটি গড়ে ওঠে ১৮৬৯ সালের ১ এপ্রিল।বর্তমানে খুলনা জেলার আয়তন ৪ হাজার ৩৯৪.৪৬  বর্গকিলোমিটার। সর্বশেষ ২০১১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী এ জেলার মোট জনসংখ্যা ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৫২৭ জন।তবে সিটি করর্পোরেশনের শুমারী অনুযায়ী মহানগরে ১৫ লাখ জনসংখ্যা। খুলনা জেলার রয়েছে ৯ টি উপজেলা ও ১৪ টি থানা।খুলনা জেলাতে রয়েছে সব ধর্মের মানুষ।

খুলনা জেলায় রয়েছে অসংখ্য মসজিদ। নিচে মসজিদ গুলোর বর্ণনা করা হলো —★চিংড়া মসজিদ ★>>খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায়  চিংড়া নামক এক গ্রামে একটি প্রাচীন মসজিদ রয়েছে। এই মসজিদ কে নির্মাণ করেছে তার সঠিক তথ্য এখনো জানা যায়নি। মসজিদটি খানজাহান আলীর সময় নির্মিত হয়েছে বলে অনেকের ধারণা করেন। এই মসজিদ নিয়ে অনেক অলৌকিক কথা শুনা যায়। 

খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার  বেদকাশি গ্রামে এই মসজিদ অবস্থিত।হজরত খানজাহান আলী (রঃ) সময়ে মসজিদ নির্মিত হয়েছে। তারঁ একান্ত সহচর হযরত খালেক খাঁ (রঃ)কারুকার্য করে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। খ্রিস্টাব্দ ১৫০০ সালে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আরশ নগর গ্রামে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এ মসজিদ নির্মাণ  রেছেনপীরের কালেম শেখ আব্দুর (রঃ)। তিনি ইসলাম প্রচারে হযরত খানজাহান আলীর সালে এসেছেন উপমহাদেশে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মসজিদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও ১৯৮৩ সালে ধ্বংসস্তূপ থেকে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।পুনঃনির্মাণের সময় মসজিদের ভেতর থেকে একটি বড় শিলালিপি পাওয়া যায়,যাতে একটি হাদিস লেখা রয়েছে। এই শিলা লিপিটি রাজশাহী বরেন্দ্র জাদুঘর এটি সংরক্ষিত রয়েছে।

খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার আলাইপুর গ্রামে একটি চমৎকার প্রাচীন মসজিদ রয়েছে।এই মসজিদ কে নির্মাণ করেছে তার সঠিক তথ্য জানা এখনো যায়নি। তবে বিজ্ঞজনের ধারণা,হযরত খানজাহান আলী (রঃ) এটা নির্মাণ করেন। খুলনা মহানগরীর সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ টাউন জামে মসজিদ।১৯৫৪ সালের মসজিদটি নির্মিত হয়েছে।এটি ভৈরব নদীর পাশে অবস্থিত অত্যন্ত সুন্দর একটি মসজিদ। খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার সোলেমান পুর গ্রামে মসজিদ অবস্থিত। এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছে হযরত খানজাহান আলী (রঃ)এর আমলে।তার সাথে ইসলাম প্রচার করতে আসা তার এক শিষ্য হযরত বোরহান উদ্দিন (রঃ)এই সুন্দর মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। ১৯৮০ সালের 22 নভেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নুরুল উদ্দিন কে সভাপতি করে এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। বাইতুন নূর মসজিদ কমপ্লেক্স খুলনা নগরীর সবচেয়ে আধুনিক ও সুন্দর মসজিদ।

১৯৯২ সালের ১২ ডিসেম্বর এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এস এম মোস্তাফিজুর রহমান। এই সুবিশাল মসজিদে একসাথে ৬ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এই মসজিদে রয়েছেন মহিলাদের নামাজের জায়গা, মাদ্রাসা ও ইসলামী পাঠাগার। এই মসজিদের মিনারের উচ্চতা ১৩৮ ফুট। ১৮৮০ সালে টুট পাড়া গ্রামে নির্মিত হয় এই পুরাতন ও সুন্দর একটি মসজিদ। খুলনা অঞ্চলে হযরত খানজাহান আলীর (রঃ) ইসলাম প্রচারে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।  তিনি এবং তাঁর শিষ্যরা  খুলনা অঞ্চল ও তার আশেপাশের এলাকা ইসলাম প্রচার করেছেন।

এছাড়াও হজরত খানজাহান আলীর (রঃ) আমলে নির্মিত হয় বিভিন্ন মসজিদ ও বিভিন্ন স্থাপনা। খুলনা সার্কিট হাউস হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় খুলনা সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত। এখানে প্রায় লক্ষাধিক মুসল্লী ঈদের নামাজ আদায় করেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে খুলনা বিভাগ।খুলনা জেলায় রয়েছে,  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়,প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ওএছাড়াও আরাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।এখানে রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। 

বিভাগীয় কমিশনার এর কার্যালয়, জজ কোর্ট, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বন বিভাগ,খুলনা জেলা পরিষদ ভবন, সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিস টেলিযোগাযোগ অফিস সমূহ,বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত,মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত, সুন্দরবন বিভাগের  কার্যালয়,কর বিভাগ এর অগিস,পোস্ট মাস্টার জেনারেল দক্ষিনাঞ্চালের কার্যালয়,কাস্টম হাউস,বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন শিল্প কার্যালয় অফিস ইত্যাদি। খুলনা বিভাগে রয়েছে অনেক শিল্প কারখানা।তার মধ্যে জুট শিল্প কারখানা অন্যতম। জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত করণ  কারখানা,সিমেন্ট উৎপাদন কারখানা ইত্যাদি।খুলনা বিভাগের মংলা সমুদ্র বন্দর দিয়ে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের পন্য আমদানি  রপ্তানি করা হয়।এটি দেশের অন্যের সমুদ্র বন্দর হিসেবে পরিচিত। দেশের আমদানি রপ্তানিতে এই বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

বিশ্বের বৃহত্তর ম্যানগ্রোভ  বন সুন্দরবন। এটি দেশের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রয়েল বেঙ্গলের আবাস স্থল এই সুন্দর বনে।এই বনে রয়েছে,বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী, উদ্ভিদ, লতাপাতা,নানা ধরনের পাখি, মৌমাছি,লোনার পানির মাছ ইত্যাদি। এই বন অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা। এখানে মানুষ মধু মধু সংগ্রহ করে ও কাঠ কেটে জিবীকা নির্বাহ করে।বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় সুন্দরবনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সুন্দরবন আমাদের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে। এই বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে ভ্রমণ করতে যায়। 

খুলনা বিভাগে রয়েছে সকল ধর্মের পুরাকীর্তি স্থাপত্য।এই বিভাগের বাগেরহাটে ষাটগম্বুজ মসজিদ অবস্থিত, যা এই বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য। এখানে রয়েছে পাইকগাছা উপজেলার কপিলেশ্বর মন্দির, নগরীর মহেশ্বরপাশা জোড়া মন্দির, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নানাবাড়ি, যা তার দল, বৌদ্ধ আশ্রম ইত্যাদি।মুসলিম পুরাকীর্তির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুরাতন সুন্দর ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। পাইকগাছা উপজেলা সরল খার দিঘি,ঘোরা ডাকাতের বাড়ি,বুড়ো মৌলবীর দরগা, সুফি খার গড়,খাজা ডাঙ্গার প্রাচীন কবর, শাক বারের লবনের কারখানা ইত্যাদি। 

খুলনা বিভাগে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি, সাপুড়ের গান, ধান কাটার গান, ঘোল তৈরীর গান,  চুন তৈরির গান, ধোয়া গান, হাবু গান, জেলেদের গান, কবিরাজের গান, গাছ কাটার গান।এছাড়াও এখানে আছে বিভিন্ন ধরনের মাটির তৈরি খেলনা, কাঠের তৈরিখেলনা, মাদুর, বাশ ও বেতের  তৈরি বিভিন্ন জিনিস, ইত্যাদি। 

সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টটি শেয়ার করুন।

এই ক্যাটাগরির আরও পোষ্ট
© All rights reserved © 2020 bdnews99.com