1. asmaakter99987@gmail.com : Asma Akter : Asma Akter
  2. jannatulsifa9486@gmail.com : BD NEWS 99 :
  3. ohanafariah8@gmail.com : Fariah Jalal Ohana : Fariah Jalal Ohana
  4. help.geniusplug@gmail.com : Geniusplug Technology : Geniusplug Technology
  5. jannatulparash123@yahoo.com : Jannat Parash : Jannat Parash
  6. jannatulsifa236@gmail.com : jannatul sifa : jannatul sifa
  7. kabirtanzim2@gmail.com : Kabir Mahmud : Kabir Mahmud
  8. jakia0702@gmail.com : Kuashabrita Usha :
  9. nilmubdiol@gmail.com : Md Mubdiul Islam : Md Mubdiul Islam
  10. mituakter54402@gmail.com : Mehreen Mitu :
  11. engr.romansarkar@gmail.com : romanbd :
  12. afrinsabrin2019@gmail.com : SABRIN AFRIN :
  13. jannatul.sifa@yahoo.com : Shahjadi Mukti :
  14. soyboliny@gmail.com : Shifat Afrin Semu : Shifat Afrin Semu
  15. suchonaislam23@gmail.com : Shuchona Islam :
  16. ummayjahan3@gmail.com : Tanzina Mim : Tazina MIm
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৭:২৮ অপরাহ্ন

রেমিট্যান্স কিভাবে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব রাখে

  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ১৪ জুন, ২০২০
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে

রেমিট্যান্স কিভাবে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব রাখে।রেমিট্যান্স হলো প্রবাসে কর্মরত কোন অভিবাসী কর্মী তার মাতৃরাষ্ট্রে যে অর্থ প্রেরণ করে তা।বাংলাদেশের মতোন একটি দেশ করোনা পরিস্থিতিতেও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ভেঙে পড়েনি শুধু মাত্র প্রবাসীদের পাঠানো এই রেমিট্যান্স এর কারণেই।বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি প্রধান চালিকাশক্তি হলো রেমিট্যান্স।
বাংলাদেশে রেমিট্যান্স আসার পেছনের একটা ইতিহাস আছে।১৯৭৪ সালে মজুরি উপার্জনকারী প্রকল্প শুরু হয়েছিলো অনাবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরিত অর্থ বৈধ উপায়ে দেশে নিয়ে আসার জন্য।এই প্রকল্প অল্প সময়ের মধ্যেই বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে সেই সময়তেই বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রদান করা হয়েছিলো ১১.৮ মিলিয়ন ডলার।সেই থেকে যে রেমিট্যান্স পাঠানো শুরু হয়েছে তা আর ৪৬ বছরেও বন্ধ হয়নি।বরং আস্তে আস্তে রেমিট্যান্স এর পরিমাণ বেড়েই চলেছে।১৯৮০-৮১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এর পরিমাণ ছিলো ৩৫০ মিলিয়ন ডলার।১০ বছর পর সেই রেমিট্যান্স এর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে দাড়ায়।১৯৯০-৯১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এর পরিমাণ ছিলো ৭৫০ মিলিয়ন ডলার।সর্বপ্রথম ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ১৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠানো হয়।বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে ২০১৫ সালে পাঠানো ওই রেমিট্যান্সের কারণে বাংলাদেশ বৃহত্তম রেমিট্যান্স প্রাপক দেশসমূহের একটি হয়ে দাড়িয়েছিলো।

রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত রেমিট্যান্সের ব্যাপারে বলেছিলেন,’প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এর কারণেই আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।পদ্মা সেতুসহ অনেক বড় বড় প্রকল্প নিজেদের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার সাহস পাচ্ছি রেমিট্যান্স এর উপর ভরসা করেই।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান দুটি চালিকাশক্তি হলো রেমিট্যান্স এবং তৈরি পোশাক শিল্প।কিন্তু তৈরি পোশাক শিল্প থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা গেলেও বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানিতে এর খরচ আছে।সেদিক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এককভাবে ভূমিকা পালন করে আসছে রেমিট্যান্স।

২০১৮ সালের এক তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্স আসা দেশ গুলোর মধ্যে ৯ম স্থানে আছে।সরকারি হিসেব অনুযায়ী বিশ্বের ১৬২টি দেশে বাংলাদেশের নাগরিক অভিবাসী হিসেবে আছেন,আর এই অভিবাসী সংখ্যা প্রায় ৮৯ লক্ষের বেশি।এটা সরকারি হিসেব বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যার পরিমাণ আরও বেশি প্রায় ১ কোটির ওপর।আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ আয় বা জিডিপির ৩০ ভাগ আসে এই রেমিট্যান্স থেকে।বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখে রেমিট্যান্স। বিগত দশ বছরে প্রবাসীরা কি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন তা একবার দেখে নেওয়া যাক।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী।

২০১০-১১ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ছিলো ১শত কোটি ডলার,২০১১-১২ অর্থবছরে ১ হাজার ২শত কোটি ডলার,২০১২-১৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাড়ায় ১৪.৪৬ বিলিয়ন ডলারে,২০১৩-১৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আসে ১৪.২২ বিলিয়ন ডলার যা ২০১২-১৩ অর্থবছরের তুলনায় ১.৬ শতাংশ কম।বরাবর রেমিট্যান্স এর পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখি থাকলেও ২০১৩-১৪অর্থবছরে তার ছন্দপতন ঘটে।২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এর পরিমাণ ছিলো ১৫.৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি যা ছিলো তখনকার সময়ের করা রেমিট্যান্স পাঠানোর সেরা রেকর্ড।২০১৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ছিলো ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি যা ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ রিজার্ভ ছিলো।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিলো ১৪.৯৩ বিলিয়ন ডলার,তা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২.৫২ শতাংশ কম। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১২.৭৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় অনেক কম।এই তিন বছরে রেমিট্যান্স এর পরিমাণ কমে গেলেও দেশের অর্থনীতিতে তা ভূমিকা পালন করেছে।ছন্দপতন হলেও আবার ঠিক সামলে নেওয়া গিয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আসা রেমিট্যান্স এর পরিমাণ ছিলো ১৪.৯৮ বিলিয়ন ডলার গত অর্থবছরের তুলনায় যা ১৭.৩ শতাংশ বেশি।এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাননি প্রবাসী বাংলাদেশিরা।দিন রাত এক করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে।২০১৮ সালে আসা রেমিট্যান্স এর পরিমাণ ছিলো ১৫.৫৮ বিলিয়ন ডলার।১৯ সালে তা বেড়ে গিয়ে হয়েছিলো ১৮ বিলিয়ন ডলার।

এই করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভীত কেপে উঠার কথা ছিলো সেখানে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতির গায়ে আচর লাগতে দেয়নি।সরকার প্রবাসীদের আত্মত্যাগের কথা ভেবেই রেমিট্যান্স এর উপর ২ শতাংশ করে প্রণোদনা দিচ্ছেন।কিছুদিন আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেকর্ড সংখ্যক রিজার্ভের পেছনে অবদান রেখেছে প্রবাসী আয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রেমিট্যান্স এর ব্যাপারে বলেছিলেন,’এই কঠিন সময়েও রেমিট্যান্স পাঠিয়ে প্রবাসী ভাইয়েরা আবারো প্রমাণ করলেন,দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তারা কতটা অবদান রাখেন।এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও যেখানে বিশ্বের মোটামুটি সবদেশেই দীর্ঘদিন লকডাউন অবস্থা ছিলো সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গত এপ্রিল মাসে ১০৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।আর গত মাসে অর্থাৎ মে মাসে রেমিট্যান্স এর পরিমাণ ছিলো ১.৫ বিলিয়ন ডলার।এই যে বিগত দশ বছরের রেমিট্যান্স ইতিহাস থেকেই বুঝা যায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কি পরিমাণ ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতে রাখবে।

সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টটি শেয়ার করুন।

এই ক্যাটাগরির আরও পোষ্ট
© All rights reserved © 2020 bdnews99.com