1. asmaakter99987@gmail.com : Asma Akter : Asma Akter
  2. jannatulsifa9486@gmail.com : BD NEWS 99 :
  3. ohanafariah8@gmail.com : Fariah Jalal Ohana : Fariah Jalal Ohana
  4. help.geniusplug@gmail.com : Geniusplug Technology : Geniusplug Technology
  5. jannatulparash123@yahoo.com : Jannat Parash : Jannat Parash
  6. jannatulsifa236@gmail.com : jannatul sifa : jannatul sifa
  7. kabirtanzim2@gmail.com : Kabir Mahmud : Kabir Mahmud
  8. jakia0702@gmail.com : Kuashabrita Usha :
  9. nilmubdiol@gmail.com : Md Mubdiul Islam : Md Mubdiul Islam
  10. mituakter54402@gmail.com : Mehreen Mitu :
  11. engr.romansarkar@gmail.com : romanbd :
  12. afrinsabrin2019@gmail.com : SABRIN AFRIN :
  13. jannatul.sifa@yahoo.com : Shahjadi Mukti :
  14. soyboliny@gmail.com : Shifat Afrin Semu : Shifat Afrin Semu
  15. suchonaislam23@gmail.com : Shuchona Islam :
  16. ummayjahan3@gmail.com : Tanzina Mim : Tazina MIm
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরিক্ষা আসলেই কতটা কার্যকর

  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১১ মে, ২০২০
  • ৩০ বার দেখা হয়েছে

প্রাথমিক শিক্ষার  একটি মাত্র লক্ষ হলো শিশুর শারীরিক,মানসিক,সামাজিক নৈতিক,মানবিক,নান্দনিক,আধ্যাত্মিক ও আবেগিক বিকাশ সাধন এবং তাদের দেশাত্ববোধে,বিজ্ঞান মনস্কতায়,সৃজনশীলতায় ও উন্নত জীবনের স্বপ্নাদর্শনে উদ্বুদ্ধ করা।এই লক্ষ প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু হয়ে একটি সুনির্দিষ্ট  কারিকুলামের মাধ্যমে  পঞ্চম শ্রেনিতে গিয়ে অর্জিত  হবে বলে আশা করা হয়।এরই পরিপ্রেক্ষিতে  প্রতি বছর প্রাথমিক শিক্ষা  সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।প্রকৃত  পক্ষে সমাপনী  পরিক্ষার  মাধ্যমে  প্রাথমিক  শিক্ষার  লক্ষ  কতটুকু  অর্জিত  হয় বর্তমানে  সেটা বিবেচনার বিষয়  হয়ে দাড়িয়েছে।২০০৯ খ্রিঃথেকে ২০১৯ খ্রিঃ পর্যন্ত দীর্ঘ  ১১ বছর যাবত সমাপনী  পরীক্ষা  অনুষ্ঠিত  হয়ে  আসছে।এই দীর্ঘ সময় কাল পরেও প্রাথমিক শিক্ষা  সমাপনী  পরিক্ষার  কার্যকারিতা সম্পর্কে  মতভেদ রয়েছে। কারো  কারো মতে সমাপনী  পরীক্ষা  শিক্ষার্থীদের  উপর অতিরিক্ত  বোঝা।

যেহেতু  অষ্টম  শ্রেনিতে শিক্ষার্থীদের  আবার আরও  একটি  পাবলিক পরিক্ষায়  অংশগ্রহণ  করতে হচ্ছে, তাই এই অল্প সময়ে দুইটি পাবলিক  পরিক্ষায়  অংশগ্রহণ  করা তাদের উপর  একটা মানসিক চাপ  সৃষ্টি করে।অন্য দিকে পরিক্ষামূলক ভাবে বাংলাদেশের  বেশ কিছু  প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে  প্রাথমিক  শিক্ষা  অষ্টম  শ্রেনি পর্যন্ত  অবৈতনিক  করা হয়েছে।আবার পরিক্ষা  পরিচালনার  জন্য  প্রতি বছর সরকারকে  শত কোটি  টাকা  ব্যয় করতে হচ্ছে।  এই টাকা দিয়ে হয়তো প্রাথমিক  বিদ্যালয়কে প্রযুক্তিগত  দিক থেকে আরও  উন্নত করা যেতে পারত। এছাড়া পরিক্ষা পদ্ধতি ও খাতা মূল্যায়ন ও হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ।আবার ২০১১ সাল থেকে সমাপনী  পরিক্ষার  ফলাফল গ্রেডিং  পদ্ধতিতে করা হচ্ছে।যার ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থী  ও অভিভাবকদের  মনে A+ গ্রেডে উত্তীর্ণ না হওয়া টা সামাজিক  ভাবে খুবই  অসম্মান জনক হয়ে দাড়িয়েছে। সবাইকেই  যেন A+ গ্রেডে উত্তীর্ণ  হতে হবে।তা না হলে শিক্ষার্থীদের কোন শিক্ষাই অর্জিত  হয়নি এমন মনোভাব গড়ে উঠেছে। আর সমাপনী পরীক্ষা যেন শিক্ষার্থীদের না হয়ে বাবা, মা’র হয়ে গেছে।এ সুযোগ  কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু কোচিং  সেন্টার , গাইড বই প্রকাশনী সংস্থা ও কিন্ডারগার্টেন গুলো শিক্ষাকে বানিজ্যিক করণ করে ফেলেছে।  A+ প্রাপ্তির  জন্য শিক্ষার্থীদের  চেয়ে অভিভাবকরা  আরও বেশি চিন্তায় পরে গেছে। ফলে তারা তাদের শিশুদের  বিদ্যালয়ের  পাশাপাশি  বিভিন্ন  কোচিং  সেন্টার গুলো তে ও নিয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন  প্রকাশনীর  একাধিক  গাইড  বইয়ের  সহায়তা  নিতে হচ্ছে , যা শিক্ষার্থীদের  বাড়তি বইয়ের  বোঝা  ও অতিরিক্ত  পড়ার চাপ নিতে হচ্ছে। সার্বক্ষণিক  বিভিন্ন টেস্ট  ও মূল্যায়ন পরীক্ষায়  অংশ গ্রহণ  করার জন্য এক কোচিং  সেন্টার  থেকে  অন্য কোচিং সেন্টার  গুলো তে  আসা যাওয়ায় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকার ফলে শিশু তার  জীবন থেকে সুন্দর  একটা  শৈশব  হারাচ্ছে, পাচ্ছেনা খেলাধূলা  করার সুযোগ । সারাক্ষণ  মানসিক চাপে থাকতে হচ্ছে। ফলে শিশুর  মুক্ত চিন্তার  বিকাশ পাচ্ছেনা এর সাথে মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন  হচ্ছে।এছাড়াও  A+ প্রাপ্তির  লোভ দেখিয়ে  বিভিন্ন  বেসরকারি  স্কুল ও কোচিং সেন্টার  গুলো  অভিভাবকদেরকে পঞ্চম  শ্রেনিতেই বিরাট আর্থিক ক্ষতিতে ফেলে দিচ্ছে।যা অভিভাবকদের  উপর অতিরিক্ত  আর্থিক  চাপ বলে মনে করা হয়।এমন কি এই কোচিং  বানিজ্যের  সাথে সরকারি  প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের  কিছু সংখ্যক অসাধু শিক্ষক জড়িয়ে  পড়েছে।এতে করে শ্রেনি কক্ষে তাদের স্বাভাবিক  পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠে পিছিয়ে পড়ছে, শ্রেনি কক্ষে মনোযোগ  হরাচ্ছে।আবার পরিক্ষা হলের অরাজক পরিস্থিতি, নকল করা, পরিদর্শকের কাছ থেকে উত্তর  জেনে নেওয়া,পাশের শিক্ষার্থীদের সাথে খাতা মিলিয়ে নেয়া,সব মিলিয়ে শিশুদের  কোমল মনে পড়ালেখা  নিয়ে বিরুপ প্রভাব পড়ছে।

এসব সমস্যার  মধ্যেও  সমাপনী  পরিক্ষার  কিছু  ভালো  দিক ও রয়েছে। সমাপনী  পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার  ফলে শিশুর মনে পরিক্ষা  ভীতি কমে যায়, নিয়মিত  বিদ্যালয়ে  উপস্থিত থাকছে এবং  ভালো ফলাফলের আশায় পড়াশোনায় মনোযোগী  হচ্ছে।যদিও  বাংলাদেশের  বাইরের  অনেক দেশেই শিশুদের প্রাথমিক  স্তরে পাবলিক  পরিক্ষা নেয় না।তাই বাইরের  বিশ্বের সাথে মিল রেখে, শিক্ষার্থীদের  বয়স ও সামর্থ বিবেচনা  করে , শিক্ষাকে বানিজ্য করণের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং প্রাথমিক  শিক্ষার  প্রকৃত  লক্ষ অর্জন  করতে প্রাথমিক শিক্ষা  সমাপনী  পরীক্ষা  বন্ধ করা এখন সময়ের দাবী হয়ে উঠেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টটি শেয়ার করুন।

এই ক্যাটাগরির আরও পোষ্ট
© All rights reserved © 2020 bdnews99.com