1. asmaakter99987@gmail.com : Asma Akter : Asma Akter
  2. jannatulsifa9486@gmail.com : BD NEWS 99 :
  3. ohanafariah8@gmail.com : Fariah Jalal Ohana : Fariah Jalal Ohana
  4. help.geniusplug@gmail.com : Geniusplug Technology : Geniusplug Technology
  5. jannatulparash123@yahoo.com : Jannat Parash : Jannat Parash
  6. jannatulsifa236@gmail.com : jannatul sifa : jannatul sifa
  7. kabirtanzim2@gmail.com : Kabir Mahmud : Kabir Mahmud
  8. jakia0702@gmail.com : Kuashabrita Usha :
  9. nilmubdiol@gmail.com : Md Mubdiul Islam : Md Mubdiul Islam
  10. mituakter54402@gmail.com : Mehreen Mitu :
  11. engr.romansarkar@gmail.com : romanbd :
  12. afrinsabrin2019@gmail.com : SABRIN AFRIN :
  13. jannatul.sifa@yahoo.com : Shahjadi Mukti :
  14. soyboliny@gmail.com : Shifat Afrin Semu : Shifat Afrin Semu
  15. suchonaislam23@gmail.com : Shuchona Islam :
  16. ummayjahan3@gmail.com : Tanzina Mim : Tazina MIm
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

করোনাকালে রো’গ প্রতিরোধে সজনে ডাটা

  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২১ জুন, ২০২০
  • ৪৭ বার দেখা হয়েছে

করোনাকালে রো’গ প্রতিরোধে সজনে ডাটা । আপনি যদি সুস্থ ও সবল থাকেন তাহলে আপনি সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারবেন। অসুস্থ থাকলে সব দিক থেকেই পিছিয়ে পড়তে হয়। শরীরে রো’গ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হলে সুস্থ, সবল ও ফিট থাকা যায়। আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল হলে আপনি সহজেই রোগা’ক্রান্ত হয়ে পড়েন যার কারনে পিছিয়ে পড়তে হয়। 

আমরা শিশুদের রো’গ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য দেই৷ আমরা বড়রাও রো’গ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিনই পুষ্টিকর খাবার খাদ্য তালিকায় রাখি৷ ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, যকৃত, বাদাম, তেল, ঘি, ডাল, ফলমূল, শাক সবজি ইত্যাদি নিয়মিত গ্রহণ করে থাকি আমরা। আমরা তো নিয়মিত কতো ধরনেরই খাদ্য গ্রহন করে থাকি রো’গ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য, যেগুলোর পুষ্টিগুন সম্পর্কে কমবেশি আমাদের সকলেরই ধারণা রয়েছে। তবে আজ আমরা জেনে নেবো ব্যাতিক্রমধর্মী সবজি “সজনে ডাটা” সম্পর্কে। সজনে ডাটায় রয়েছে ব্যাপক হারে শরীরে রো’গ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষমতা। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সজনে ডাটা সম্পর্কেঃ

আমাদের দেশে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে সজনে ডাটা সবজিটি পাওয়া যায়। সজনে ডাটা “Moringa” বৃক্ষ জাতীয় গাছ হওয়ায় এর বৈজ্ঞানিক নাম “Moringa Oleifera” যাকে ইংরেজিতে বলা হয় Drum Stick. সজনে ডাটা সবুজ ও লম্বা ধরনের সবজি। অনেকে আবার সজনের পাতা শাক হিসেবেও খেয়ে থাকে। সজনে গাছ গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে ভালো জন্মায় কেনোনা এই গাছ খরা সহিষ্ণু। সজনে গাছ এমন একটি গাছ যে গাছের ডাল রোপণ করেও বংশ বিস্তার করানো যায় আবার ফলের বীজ থেকেও বংশ বিস্তার হয়৷। সজনে পাতার গুনাগুনের কারনে একে বলা হয়  “অলৌকিক পাতা” কেনোনা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পুষ্টিসম্মৃদ্ধ হার্ব হলো সজনে পাতা। সেকারনে গবেষকেরা সজনে পাতা ও সজনে গাছ কে যথাক্রমে “নিউট্রিশান্স সুপার ফুড” ও “মিরাকেল ট্রি” বলে থাকেন। 

সজনে ডাটা ও পাতা দুটোই অত্যন্ত উপকারী। পুষ্টিগুনে ভরপুর সজনে ডাটায় রয়েছে শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি, রিবোফ্লাভিন, নায়াসিন, লৌহ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ, ফাইবার, শক্তি এবং পানি। মোট কথা প্রায় সকল প্রকার ভিটামিন, মিনারেল ও খাদ্য উপাদান সজনেতে বিদ্যমান। এ কারনে সজনে ডাটা ও পাতার মাধ্যমে প্রচুর পুষ্টি ও রো’গ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুটোই আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পেয়ে থাকি। দক্ষিন আফ্রিকায় সজনে গাছ “ম্যাজিক ট্রি” নামে পরিচিত। 

সজনে ডাটা, সজনের পাতা, এমনকি সজনের ফুলও যে কোনো ধরনের ভাই’রাস প্রতিরোধি। সজনে ডাটা শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে থাকে। সজনে ডাটা হতে আমরা অনেক ধরনের উপকারিতা আমরা পেয়ে থাকি। যেমনঃ

সজনে ডাটায় রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, রিবোফ্লাভিন ১১% প্রোটিন ২ গ্রাম, ভিটামিন বি-৬ ১৯%, ভিটামিন-সি ১২%। এছাড়াও দুধের চেয়ে চারগুণ অধিক ক্যালসিয়াম, কলার চেয়ে তিন গুন বেশি পটাসিয়াম, গরুর দুধের চেয়ে দুই গুন বেশি প্রোটিন। সজনে ডাটায় আয়রন ও জিংকও বিদ্যমান। এতো পুষ্টিগুন সম্মৃদ্ধ সজনে ডাটা খেলে মানবদেহের রো’গ প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে যে কোনো রো’গে আ’ক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় আবার রোগা’ক্রান্ত হলে তা সহজে সারতেও চায়না।

এমন অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে গ্রীষ্মের সিজনে বেশি বেশি সজনে ডাটা খেয়ে রো’গ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। সজনে ডাটায় এলার্জি প্রতিরোধ করার গুন রয়েছে। সজনে ডাটা ও সজনে পাতার রস থেকে আমরা ভিটামিন-সি, প্রদাহ বিরোধি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পেয়ে থাকি। যা এলার্জি জনিত সমস্যা কে প্রতিরোধ করে থাকে। এছাড়াও এলার্জি জনিত শ্বাস’কষ্ট, সর্দি-জ্বর এসব দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকরী। 

প্রতি ১০০ গ্রাম সজনে ডাটায় ৪.০০ মিলিগ্রাম (৩১%) লৌহ বিদ্যমান। পালংশাক এর চেয়ে তিন গুন বেশি আয়রন, দুধের চেয়ে দুই গুন বেশি প্রোটিন এবং প্রচুর পরিমাণ জিংক থাকে। যার কারনে মানবদেহের রক্ত’স্বল্পতা বা এনি’মিয়া দূর করে। সজনে ডাটা ও সজনে পাতা দুটোই এক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকরী। সজনে ডাটা র’ক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। রক্তের ক্ষতি’কর কোলেস্টেরল কে ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকরী। তাছাড়া সজনেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় ফ্রি র‍্যাডিকেল এর বিরুদ্ধে কাজ করে। যার করনে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকার কারনে হার্টও সুস্থ থাকে। হার্টের সমস্যা দূর করে সজনে ডাটা। 

সজনেতে অবস্থিত গুনাগুন আমাদের মরন’ব্যাধি ক্যা’ন্সার প্রতিরোধ করতেও কার্যত ভূমিকা রাখে। সজনে ডাটায় প্রায় ৪৬ রকমের এবং ৯০ টিরও বেশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়া অ্যান্টি ইনফ্লামমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে প্রায় ৩৬ টি। এই সকল উপাদান ক্যা’ন্সার প্রতিরোধ করে থাকে। শিশু থেকে বয়স্ক যে কারোরই দাঁতের সমস্যা হতে পারে। দাঁতের সমস্যার কারনে অগনিত অর্থ আমরা ডেন্টিস্ট এর পেছনে ব্যায় করি। কিছু কিছু সমস্যা আমরা ঘরে বসে সজনে পাতার মাধ্যমেও দূর করতে পারি।

অনেকেরই দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়, দাঁতের গোড়া থেকে র’ক্ত পড়ে। এই ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে সজনে পাতা থেকেই। আধা মগ পানিতে বেশ কিছু সজনে পাতা ফুটিয়ে নিয়ে সেই পানি ছেঁকে প্রতিদিন ভালো ভাবে কুলকুচা করলে দাঁতের মাড়ির সমস্যা দূর হয়। মায়ের বুকের দুধ উৎপাদনে সজনে ডাটার গুনের কোনো তুলনা হয় না। সজনে ডাটা পুরোপুরি পার্শ্বপ্রতি’ক্রিয়াহীন ভাবেই মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধি করে। গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান জন্মের পরে সজনে ডাটা খেতে হবে।

আবার এর পাতা শুকিয়ে গুড়ো করে রেখেও খাওয়া যেতে পারে। এই সজনে পাতার শুকনো গুড়োও অত্যন্ত কার্যকরী। এর পাতায় রয়েছে প্রোটিন, আয়রন ও ক্যালসিয়াম যা শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে সহায়তা করে। সজনেতে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাক’টেরিয়াল উপাদান। সজনে কিডনি ও যকৃতকে পরিশোধন করে। দূষিত পদার্থ দেহ থেকে শোধন করে। যার কারনে মানবদেহের অভ্যন্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি এবং যকৃত সুস্থ থাকে। কিডনি ও যকৃত সুস্থ রাখতে সজনে খাওয়া উচিৎ। 

অনেক সময় দেখা যায় আমাদের পেটে অনেক ক্ষুধা থাকে কিন্তু মুখে খাবারের রুচি একদমই থাকে না। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সজনে অত্যন্ত কার্যকরী। সজনে ডাটা মুখে খাবারের রুচি বাড়ায়। আবার সজনে পাতা ভর্তা করে খেলেও মুখে খাবারের রুচি বাড়ে। সজনে ডাটা ও পাতা নিয়মিত খেলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হজম জনিত সমস্যা দূর করে হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। 

আমাদের পেটে ব্যাথা হলে, বদহজম হলে, পেট ফাঁপা জনিত সমস্যা থাকলে, হজমে গোলমাল হলে সজনের তরকারি খেতে হবে। কেনোনা সজনে পেটের সমস্যা দূর বহু আগে থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পেটের সমস্যা থাকলে সজনে খেলে অত্যন্ত সুফল পাওয়া যায়। সজনে অত্যন্ত ভালো ভাই’রাস প্রতিরোধি হিসেবে কাজ করে। জল’বসন্ত বা পক্স এর জন্য দায়ি “ভ্যারিসেলা জোস্টার” নামের এক ধরনের ভাইরাস রয়েছে। সজনে এই ভাই’রাস প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী। তাছাড়া এইচআইভি ভাই’রাসে আ’ক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়াও সজনে পাতার রস ব্যবহারে মাথার খুশকি দূর হয়, শরীরের মেটাবোলিজম বৃদ্ধি করে। শরীরের জন্য দরকারি যাবতীয় এমিনো এসিড আমরা সজনের মাধ্যমে পেতে পারি।

সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টটি শেয়ার করুন।

এই ক্যাটাগরির আরও পোষ্ট
© All rights reserved © 2020 bdnews99.com