1. asmaakter99987@gmail.com : Asma Akter : Asma Akter
  2. jannatulsifa9486@gmail.com : BD NEWS 99 :
  3. ohanafariah8@gmail.com : Fariah Jalal Ohana : Fariah Jalal Ohana
  4. help.geniusplug@gmail.com : Geniusplug Technology : Geniusplug Technology
  5. jannatulparash123@yahoo.com : Jannat Parash : Jannat Parash
  6. jannatulsifa236@gmail.com : jannatul sifa : jannatul sifa
  7. kabirtanzim2@gmail.com : Kabir Mahmud : Kabir Mahmud
  8. jakia0702@gmail.com : Kuashabrita Usha :
  9. nilmubdiol@gmail.com : Md Mubdiul Islam : Md Mubdiul Islam
  10. mituakter54402@gmail.com : Mehreen Mitu :
  11. engr.romansarkar@gmail.com : romanbd :
  12. afrinsabrin2019@gmail.com : SABRIN AFRIN :
  13. jannatul.sifa@yahoo.com : Shahjadi Mukti :
  14. soyboliny@gmail.com : Shifat Afrin Semu : Shifat Afrin Semu
  15. suchonaislam23@gmail.com : Shuchona Islam :
  16. ummayjahan3@gmail.com : Tanzina Mim : Tazina MIm
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৮:২৭ অপরাহ্ন

তাজমহলের অজানা সেই রহস্য, যা জানলে আপনি অবাক হবেন

  • প্রকাশিতঃ বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০
  • ৩৭ বার দেখা হয়েছে
তাজমহলের অজানা রহস্য

তাজমহলের অজানা সেই রহস্য, যা জানলে আপনি অবাক হবেন।তাজমলের নাম শুনে নি এই উপমহাদেশের এমন কোন মানুষ নেই।ভালোবাসার উদাহরণ দিতে গেলেই আমরা বলি তাজমহল বানিয়ে দিবো তোমার জন্য।কিন্তু এই তাজমহল নিয়েও রয়েছে অজানা রহস্য।শুধুমাত্র ভালোবাসার প্রতীক হিসেবেই কি তাজমহল বানিয়ে ছিলেন, নাকি এর পিছনেও রয়েছে না জানা অনেক রহস্য, তা প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন।মুঘল স্থাপত্যশৈলির একটি অন্যতম নিদর্শন হলো ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত, যার নাম তাজমহল। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী আনজুমান্দ বানু বেগম, যিনি সবার কাছে মমতাজ মহল নামে পরিচিত, তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই এই অসাধারণ সৌধটি নির্মান করেন।তাজমহল নির্মানের কাজ ১৬৩২ সালে শুরু হয়ে ১৬৫৩ সালে শেষ হয়।

তাজমহল এর নকশা কে করেছেন, তা নিয়ে রয়েছে নানা ধরনের বির্তক।তবে এতে সন্দেহ নেই যে,তাজমহলটি যারা নকশা করেছেন তারা ছিলেন অতি সুদক্ষ।সৌধটি মূল নকশাকারকের তালিকায় প্রার্থীতায় এগিয়ে আছেন উস্তাদ আহামেদ লাহেরি।এটি ইউনেস্কো বিশ্বঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় ১৯৮৩ সালে।বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে এটি অন্যতম। এটিকে বলা হয় ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের সার্বজনীন প্রসংশিত নির্দশন।তাজমহল এর অনেক অজানা রহস্য এখনো আমাদের অজানা।এ নিয়ে সকলের মনে রয়েছে হাজারো প্রশ্ন। বিভিন্ন গবেষণায় তার কিছুটা রহস্য উন্মোচন করেছেন।তাজমহল শাহাবুদ্দিন মুহাম্মদ শাজাহান এর স্ত্রী মমতাজ এর জন্য নির্মান করেন সমাধি সৌধর জন্য।পিতামহ আকবর ও পিতা জাহাঙ্গীর এর অতি আদরে বড় হয়ে ওঠা শাজাহান ছিলেন যুদ্ধবিদ্যা, লেখাপড়ায় পারদর্শীর পাশাপাশি স্থাপত্যশিল্প,মনিরত্ন,কারুশিল্প ও ছিলো অনেক আগ্রহ।

শাজাহানের ১৫ বছর বয়সে তার সাথে রাজ দরবারের উচ্চতম পদাধিকারি ওমরাহ ইতিমদ্দৌলার পৌত্রী আর্জুমন্দ বানু বেগম (মমতাজ)এর সাথে বাগদান হয়।জ্যোতিষীবিদের মতে সেই সময়ে কোন ভালো কোন দিন না থাকায় পাচ বছর পরে তাদের বিয়ে হয়।আর্জুমন্দ বানুর বেগমের বিয়ের পর নতুন নাম হয় মমতাজ মহল। বিয়ের পর তাদের রাজ্যের সাফল্য আরো বেড়ে যায়।সম্রাট শাজাহান যেখানেই যেতেন সেখানেই তার প্রিয় পত্নী মমতাজকে সাথে নিয়ে যেতেন।এমনি বিভিন্ন যুদ্ধেও শাজাহান মমতাজকে সাথে নিয়ে যেতেন।বুরহানপুরে মমতাজের ১৪ তম সন্তান প্রসব করার সময় তার আকস্মিক মৃ’ত্যু হয়।প্রিয় স্ত্রীর এই অসময়ে চলে যাওয়াতে সম্রাট অনেক ভেঙে পরেন।এমনকি বেশ কিছুদিন রাজ কাজে মনোযোগ দিতে পারেন নি।তার বড় মেয়ে তখন তাকে সামলে রাখতেন।বুরহানশাহির কিছু দূরে মমতাজকে অস্থায়ী ভাবে সমাধি দেওয়া হয়।

নিজ রাজ্য আগ্রায় ফেরার পর সম্রাট তার স্ত্রী মমতাজ এর জন্য সমাধি সৌধ বানানো সিন্ধান্ত নেয়।এক বিবরণ থেকে জানা যায়,স্থান নির্বাচন, স্থাপতি ও বাস্তুকার নিয়োগ, সৌধের রূপকার,অলংকার ইত্যাদি সব কিছু সম্রাটের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু হয়।যমুনা নদীর তীর ঘেষে এই চমৎকার সৌধ নির্মান করা হয়। তাজমহলের নকশার ভার ধারনা করা হয় উস্তাদ আহেমদ লাহোরি।এক সূত্র থেকে জানা গেছে,উস্তাদ আহেমদ লাহরি ছিলেন একজন গতিতজ্ঞ,প্রযুক্তিবিদ,জ্যোতিষবিদ হিসেব খ্যাত। তিনি শুধু তাজমহল নয়, দিল্লির শাহজাবাদ ও লালকেল্লার স্থপতি ছিলেন।তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে সম্রাট তাকে ‘নাদির-উল-আসর(দুনিয়ার সেরা) উপাধি দিয়েছেন। উস্তাদ আহমেদ-লাহরিকে সাহায্য করেছিলেন উস্তাদ হামিদ।

জাহাঙ্গীর এর শাসন আমলের অভিজ্ঞ নির্মান শিল্পী মির আবদুল করিম তাজমহলের নকশা অনুযায়ী নির্মান কাজ পরিচালনা করেন।মির আবদুল করিম এর কাজে মুগ্ধ হয়ে সম্রাট জাহাঙ্গীর তাকে মামুর খান(স্থাপিত খান) উপাধিতে ভূষিত করেছেন।তাকে নির্মান কাজে মাকরামত খান সাহায্য করেছে। বিশেষ মসলা দিয়ে তৈরি কাঠামো মূল পোড়ানো ইট,তার উপরে শ্বেতশুভ্র মর্মর পাথরের আস্তরণ। প্রায় ৩০ মিটার উচু গম্বুজ এ সৌধের মূল অাকর্ষন।এই তাজমহলের কাজ অনেকের মতে তুরস্কের উস্তাদ ইশা ওউস্তাদ আফিন্দার উপর ন্যস্ত ছিলো।নির্মান কাজ কে করেছেন, তা লিখিত না থাকার ফলে এর কত পাথক্য দেখা যায়।গম্বুজ এর উপর উলটানো পদ্ম ফুলের মাঝখান থেকে উঠে আসা প্রায় ৯ মিটার সোনার পানি দেওয়া তামার ভারি চূড়া রয়েছে।ধারণা করা হয় লাহোরের নামী স্বর্নকার কাজিম খানের কাজ এটি।দেওয়াল ও চার দিকের উচু দরজার খিলানের উপর অলংকার তাজমহলের সৌন্দর্যের মূল কারন।অত্যন্ত যত্নে দেওয়ালের নিচের দিকে রিলিফের কাজ করা সারি সারি ফুলের গাছ।এটা এতোটাই সজিব দেখতে,আপনার ইচ্ছা করবে ছুয়ে দেখতে।

ফুল গুলো দেখলে মনে হবে অতি চেনা,আবার মুহূর্তেই অচেনা লাগবে।নাস্খ শৈলী অারবি লিপি স্রষ্টার নামটা শুধু জানা গেছে খিলানের কিনারায় উৎকীর্ন করা।কারণ তিনি বাইরের ২ জায়গায় ও ভিতরে এক জায়গায় নিজের নাম লিখেছেন। বস্তুত এই সুবিশাল চমৎকার সমাধিসৌধ একমাত্র লিপিকার আমানত খানের নাম ও তারিখ ছাড়া আর কোনো নাম ভা তারিখ খুজে পাওয়া যায় নি বা লেখাই নেই।ভাগ্যান্বেষে সিরাজি দুই গুনী বিদ্বান ভাই মোগল দরবারে আসেন জাহাঙ্গীর এর রাজত্ব কালের প্রথম দিকে।বড় ভাই মোল্লা শুকল্লা সিরাজ আফজাল খান উপাধি পান ও মুখ্য অমাত্যের পদে উন্নীত হন শাজাহানের বিশেষ আস্তাভাজন হয়ে।লিপিবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন ছোট ভাই আব্দুল হক সিরাজি।তার প্রথম লিপি ব্যবহার করা হয় সেকেন্দ্রার আকবর এর সমাধির দক্ষিন দরজায়।

এর পরে তিনি আমানত খান উপাধি পেয়ে তিনি শাজাহানের মূখ্য লিপিকার পদেব উন্নীত লাভ করেন। প্রথমেই নজরে পরে ২ টি সমাধিকে ঘেরা সূক্ষ্ম জালির কাজ করা আটকোনা মর্মর বেষ্টনী অন্ধকার তাজমহল এর বিশাল গম্বুজের নিচে।ধারণা করা হয় এই ৮ টি পাথরের উপর জালি তৈরি করতে ও নানা ধরনের রঙিন রত্ন পাথরের টুকরা দিয়ে ফুল ও লতা পাতার ‘পরচিনকারি’বা’ পিয়েত্রা দ্যুরার’ কাজ শেষ করতে সময় লেগেছিলো ১০ বছর।কাশ্মির থেকে স্যাফাহার,তিব্বত থেকে টারকোয়াজ, গুজরাট থেকে অ্যাগেট, কাশগড় থেকে জেড,আরব দেশ থেকে ক্যার্নেলিয়ান, বাদাকসাম থেকে ল্যাপিস লাজুলি,শ্রীলঙ্কা থেকে মায়ানমার হতে বিভিন্ন রকমের মনি রত্ন এনে,এই অদ্ভুত সজীব ‘ইনেলের ‘ কাজ করেছে।আবার অনেকে ধারনা করেন দিল্লির নামকরা মিনারকার চিরঞ্জিলালের উপর কাজের ভার পরেছিলো।আবার অনেকেই মনে করেন বিভিন্ন ধরনের রঙের পাথর দিয়ে ‘ইনেল’এর কাজ এ দেশের কারুশিল্পীদের শিখিয়েছে সুদূর ইতালির ফ্লোরেন্স থেকে কারিগর এসে।

তাজমহল ঘুরতে এসে অনেক ইউরোপীয়ানরাই মনে করেছে, এই কাজ ইউরোপীয়দের করা।জাহাঙ্গীর এর দরবারে এসে অনেক বছর কাজ করে গেছেন একজন ফরাসি স্বর্ন শিল্পী অগুস্তঁ দ্যা বোর্দা।জাহাঙ্গীর তাকে ‘হোমরমন্দ’ উপাধি দিয়েছিলো তার করা নতুন ধরনের সিংহাসন দেখে।কিন্তু তাজমহলের নির্মান কাজ শুরু হওয়ার আগেই সে মা’রা গিয়েছিলো।মুঘল আমলের এই আশ্চর্য শিল্প কলা দেখতে এখানে প্রতি বছর গড়ে ৬০ লক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যটক এখানে আসেন। তাজমহলের সৌন্দর্য সূর্যের আলো ও চাদের জোসনায় আলাদা আলাদা রূপ অপরূপ ভাবে প্রর্দশন করে।তাজমহল স্থাপত্য নিয়ে যদিও অনেকের আবার ভিন্ন মতবাদও আছে,যেমন সম্রাট শাহজাহান ছিলেন কারুশিল্প প্রিয়,তিনি চেয়ে ছিলেন এমন এক স্থাপত্য স্থাপন করতে যার ফলে মানুষ যুগ যুগ মনে রাখবো।

অনেকে বলে থাকে তাজমহল নির্মানে যে শ্রমিকেরা কাজ করেছিলো সম্রাট তাদের আঙ্গুল কেটে দিয়েছিল, যাতে এমন স্থাপত্য আর না বানানো যায়।এছাড়াও স্ত্রী মমতাজ ছাড়াও সম্রাট শাহজাহানের আরো অনেক স্ত্রী ছিলো।তবে যাই হোক, অধিকাংশ মানুষেই মনে করে এটি সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তম স্ত্রী মমতাজ এর সমাধি সৌধের জন্য নির্মান করেছেন ভালোবাসার নির্দশন হিসেবে।এক প্রবল পরাক্রান্ত বৈভবশালী সম্রাট নিজের স্ত্রীকে যে কতটা ভালোবাসতো তার নির্দশন রেখে গেছেন, যা যুগে যুগে মানুষকে ভালোবাসার উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করবে মানুষ। 

সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টটি শেয়ার করুন।

এই ক্যাটাগরির আরও পোষ্ট
© All rights reserved © 2020 bdnews99.com