1. asmaakter99987@gmail.com : Asma Akter : Asma Akter
  2. jannatulsifa9486@gmail.com : BD NEWS 99 :
  3. ohanafariah8@gmail.com : Fariah Jalal Ohana : Fariah Jalal Ohana
  4. help.geniusplug@gmail.com : Geniusplug Technology : Geniusplug Technology
  5. jannatulparash123@yahoo.com : Jannat Parash : Jannat Parash
  6. jannatulsifa236@gmail.com : jannatul sifa : jannatul sifa
  7. kabirtanzim2@gmail.com : Kabir Mahmud : Kabir Mahmud
  8. jakia0702@gmail.com : Kuashabrita Usha :
  9. nilmubdiol@gmail.com : Md Mubdiul Islam : Md Mubdiul Islam
  10. mituakter54402@gmail.com : Mehreen Mitu :
  11. engr.romansarkar@gmail.com : romanbd :
  12. afrinsabrin2019@gmail.com : SABRIN AFRIN :
  13. jannatul.sifa@yahoo.com : Shahjadi Mukti :
  14. soyboliny@gmail.com : Shifat Afrin Semu : Shifat Afrin Semu
  15. suchonaislam23@gmail.com : Shuchona Islam :
  16. ummayjahan3@gmail.com : Tanzina Mim : Tazina MIm
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন

বিপদে মুমিন ব্যাক্তির যা করণীয় মুসলিম হিসেবে তা আমাদের জানা উচিত

  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০
  • ৩১ বার দেখা হয়েছে

বিপদে মুমিন ব্যাক্তির যা করণীয়, মুসলিম হিসেবে তা আমাদের জানা উচিত। সুখ-দুঃখ, হাসি কান্না,  বিপদ আপদ,  ভালো সময়, মন্দ সময়, সুস্থতা-অসুস্থতা নিয়েই আমাদের জীবন। মহান আল্লাহ পাক আমাদের জন্য এই পৃথিবীতে অনেক কিছু সৃষ্টি করেছেন।আমাদের দান করেছেন বেচে থাকার সকল উপাদান। মহান আল্লাহ পাক আমাদের এই ছোট দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন আল্লাহর ইবাদতের জন্য। আর মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য। এই দুনিয়া তথা ইহকাল হলো মানুষের পরীক্ষার স্থান যার ফল মানুষ পাবে আখেরাতে। মানুষ কে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ পাক বি’পদ আপদ দিয়ে থাকেন। আল্লাহ যাকে বেশি পছন্দ করেন, তাকে পরীক্ষায় ও ফেলেন বেশি।

তবে মানবজাতিকে এই বিপদ থেকে উত্তোলনের পথও মহান আল্লাহ পাক আমাদের দিয়েছেন। মানবজাতির সকল সমস্যা সমাধানের জন্য মহান আল্লাহ পাক নাজেল করেছেন পবিত্র কোরান মাজিদ। আল্লাহ মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য বিশ্বনবী এবং শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর উপর নাজেল করেছেন এই আসমানী কিতাম কোরান-মাজিদ।মুমিন ব্যাক্তি বি’পদে পড়লে তার করণীয়, নিম্নে কোরান ও হাদিসের আলোকে উল্লেখ করা হলো।

যেকোনো বি’পদ আপদে অস্থির না হয়ে মুমিন ব্যাক্তি আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস রাখেন। মুমিন ব্যাক্তিকে সব সময় এটা মনে রাখতে হবে যে, আমাদের সাথে যা কিছুই ঘটে তা মহান আল্লাহ পাকের ইচ্ছাতেই ঘটে। তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি গাছের পাতাও নড়ে না।তাই মুমিন ব্যাক্তিকে বিপদে অস্থির না হয়ে ভাবতে হবে যে যা হচ্ছে তা আমাদের ভালোর জন্যই হচ্ছে। আল্লাহ পাক মাঝে মাঝে আমাদের কাছ থেকে আমাদের অনেক প্রিয় জিনিস নিয়ে নেন৷ এর বিনিময়ে আল্লাহ পাক আমাদের তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু দিয়ে থাকেন। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, অবশ্যই তুমি পাবে, যা হারিয়েছো তার চেয়ে বেশি কিছু।

মহান আল্লাহ’পাক তাঁর বান্দাকে পরীক্ষা করে দেখেন বি’পদে ফেলে। এবং বি’পদে ধৈর্য ধারণকারীরাই সেই পুরষ্কার পায়। পবিত্র কোরানে মহান আল্লাহ’পাক ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্যিধ্যে ফিরে যাবো। এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের রবের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ এবং রহমত বর্ষিত হয়, আর তারাই সৎপথে পরিচালিত। সুরা-বাকারা, আয়াত  (১৫৬-১৫৭) ।

মুমিন ব্যক্তি  বি’পদ থেকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি ভীত থাকেন। অন্যায় থেকে দূরে থাকে থাকেন।  ছলনার মাধ্যমে কিংবা মিথ্যার মাধ্যমে কোন বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। মিথ্যা কিংবা ছলনার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে সে বিপদ থেকে মুক্তি পেলেও পরবর্তীতে তা আরো কঠিনভাবে বিপদে ফেলে মানুষকে।  স্থায়ীভাবে বি’পদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাকের  নির্দেশ অনুযায়ী চলতে হবে। 

যারা  আল্লাহকে ভয় পায় এবং  তাঁর ভয়ে  সকল   অন্যায় থেকে দূরে থাকে বিপদের সমান মহান আল্লাহ পাক তাদের সহায় হন। যারা বিপদের সময় আল্লাহকে স্বরণ করে, আল্লাহকে ভয় করে এবিং তাঁর দেয়া বিধি নিষেধ মেনে চলে, আল্লাহ’পাক নিজে তাকে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার করার ঘোষণা দিয়েছেন।মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরান মাজিদে ইরশাদ করেছেন, ‘ আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে সে বিপদ থেকে উত্তোলনের পথ বাতলে দেন। (সুরা-তালাক, আয়াত – ২) ।

যে কোন বিপদ থেকে উত্তোলনের জন্য ধৈর্য অন্যতম একটি হাতিয়ার। ধৈর্য্য ধারণ করা অতি মহৎ একটি গুণ।  নবী রাসূলগণ ছিলেন অনেক ধৈর্যশীল, অর্থাৎ এটি নবী-রাসূলদের গুন। প্রকৃত মুমিন ব্যক্তিরা বিপদের সময় দিশেহারা হয়ে পড়ে না। তারা বিপদের সময় ভরসা করে মহান আল্লাহ পাকের উপর এবং  মাথা ঠান্ডা রাখার মাধ্যমে  সেই বিপদ থেকে  ধৈর্য ধারনের মাধ্যমে   বের হওয়ার চেষ্টা করেন। 

ধৈর্য ধারণ করলে মহান আল্লাহ পাক  বান্দাকে পছন্দ করেন।  ধৈর্য ধারণ করলে দুনিয়ার বি’পদ থেকে যেমন মুক্তি পাওয়া যায় তিনি আখিরাতেও পাওয়া যায় তার পুরস্কার।  মহান আল্লাহ পাক সুরা আহকাফের ৩৫ নং আয়াতে বলেন,অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ। 

পবিত্র কোরআন মাজিদে মহান আল্লাহ পাক ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের সফলকাম বলেছেন।  মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন,’ আজ আমি তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমন প্রতিদান দিয়েছি যে তারাই সফলকাম। ‘(সূরা-মুমিনুন, আয়াত-  ১১১)। আমরা  আমাদের কৃতকর্মের জন্যই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিপদে পড়ি।  তাই সে বিপদ থেকে রক্ষা পাবার জন্য মহান আল্লাহ পাকের কাছে আমাদের ক্ষমা চাইতে হবে।যথানিয়মে বেশী বেশী তওবা এবং ইফতার করে আল্লাহ তা’আলা মানুষের উপর রহমত বর্ষণ করেন।  পবিত্র কুরআন মাজীদের সুরা আনফালের ৩৩ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহ এমন নন যে আপনি তাদের মধ্যে থাকবেন অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং আল্লাহ এমন নন যে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন।’  কোন  জাতির ওপর যখন নবী-রাসূলগণ থাকেন তখন  সে জাতিকে যেমন আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি দেন  তেমনি কোন ব্যক্তি যখন তওবা লিপ্ত থাকেন তখন আল্লাহ তাকে   মুক্তি দেন এবং শাস্তি থেকে ক্ষমা  দান করেন।

মুমিন ব্যক্তি তার যে কোন বি’পদের সময় মহান আল্লাহ পাকের দরবারে দোয়া করেন।  বি’পদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সরাসরি সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া চাইতে হবে।  আমাদের যেকোন প্রয়োজন  আল্লাহপাক জানেন এবং বোঝেন।  আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মুমিন ব্যক্তি কখনো  কোন কিছু  চায়না।মহান আল্লাহপাক সব সময় তাঁর বান্দাদের দুঃখ-কষ্ট দেখেন ।আল্লাহপাক কখনো তাঁর বান্দাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না।  পবিত্র কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে,’ আর আমার বান্দাগণ যখন আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করে তখন বলে দিন যে, নিশ্চয়ই আমি অতি কাছে। 

আহবানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে আমি তার আহবানে সাড়া দিই কাজেই তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার প্রতি ঈমান আন যাতে তারা সঠিক পথে চলতে পারে। ‘ (সূরা বাকারা, আয়াত 186)। কুরআন মাজিদের সুরা ইয়াসিনেএমন একটি আয়াত আছে, যা পড়লে মানুষ সকল প্রকার বিপদ আপদ থেকে মু’ক্তি পায়।আয়াতটি হলো,সালামুন কাউলাম মির রাব্বির রাহিম।

ইসতেগফার কি ও ইসতেগফারের সঠিক নিয়ম, মানবজাতি ও জ্বীনজাতিকে আল্লাহ তার ইবাদাত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন।কিন্তু আমরা মানবজাতি প্রায় সময় পথভ্রষ্ট হয়ে যাই।এমন অনেক কাজ আমাদের দ্বারা সংগঠিত হয় যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে আমাদের জন্য।আর এই নিষিদ্ধ কাজ গুলোকে পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়।আমাদের দ্বারা যদি কোন পাপ কাজ সংগঠিত হয় তাহলে আমরা ইস্তেগফার করে নিতে পারি।সঠিক নিয়মে ইস্তেগফার করলে মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

ইস্তেগফার অর্থ হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা।গোনাহ মাফ করার জন্য আল্লাহ’র নিকট দোয়া করা হলো ইস্তেগফার।ইস্তেগফারের মাধ্যমে দুনিয়াতে আমরা যে সকল অন্যায়,পাপকাজ,অপকর্ম করেছি তা প্রকাশ না করার আবেদন জানানো এবং আখিরাতে এই পাপ কাজ গুলোর হিসেব না নেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং দোয়া করা।আমরা অনেকেই ইস্তেগফার করতে চাই বা করি কিন্তু এর সঠিক নিয়ম জানিনা।নিয়ম জেনে ইস্তেগফার করলে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দিবেন।আল্লাহ তায়া’লার অপার মহিমা,তিনি বান্দা দোয়া করলে তাকে খালি হাতে ফেরান না।আসুন জেনে নেই ইস্তেগফারের সঠিক নিয়ম।

আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করাই ইস্তেগফার।ইস্তেগফার মন থেকে করতে হয়।যে পাপ কাজ সংগঠিত হয়েছে তার জন্য লজ্জিত,অনুতপ্ত হয়ে তা স্বীকার করতে হবে এবং সেই কাজ করার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পর ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তেন এর অর্থ হলো আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।(মিশকাত)।এক হাদিসে বর্ণিত আছে রাসূল (সঃ) এক বৈঠকে ১০০ বার ‘রাব্বিগ ফিরলী,ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রাহীম’ পড়তেন যার অর্থ ‘হে আমার প্রভু,আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন নিশ্চই আপনি মহান,তাওবা কবুল কারী।'(আবু দাউদ,ইবনে মাজাহ,তিরমিযি,মিশকাত)।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ বার পর্যন্ত তওবা ইস্তেগফার পড়তেন।ইবাদতের পর ইস্তেগফার করা যায়,শুধু যে পাপ কাজ করলেই ইস্তেগফার করা যাবে অন্যথায় না এটি ভ্রান্ত ধারণা।নবী কারিম (সঃ) নামাজের পর ইস্তেগফার করতেন।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শেষেই তিনি আসতাগফিরুল্লাহ পিড়তেন।পবিত্র কুরআনেও ইবাদতের পর ইস্তেগফারের কথা বলা আছে।আল্লাহ তা’য়ালা হজ্জের পর ইস্তেগফারের নির্দেশ দিয়েছেন।এ সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে,’তারপর তোমরা বেরিয়ে পড়ো,যেভাবে মানুষ চলে যাচ্ছে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও।নিশ্চই আল্লাহ তা’য়ালা ক্ষমাশীল,পরম দয়ালু'(সূরা বাকারা,আয়াত নাম্বার- ২)।ইস্তেগফার সম্পর্কে কুরআনে অসংখ্য বার বলা হয়েছে।সূরা নাসর এর আয়াত নাম্বার-৩ এ বলা হয়েছে,’অতঃপর তোমরা রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো’।আমরা যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে মন থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং সকাল বিকাল ইস্তেগফার করি তাহলে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দিবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টটি শেয়ার করুন।

এই ক্যাটাগরির আরও পোষ্ট
© All rights reserved © 2020 bdnews99.com