1. asmaakter99987@gmail.com : Asma Akter : Asma Akter
  2. jannatulsifa9486@gmail.com : BD NEWS 99 :
  3. ohanafariah8@gmail.com : Fariah Jalal Ohana : Fariah Jalal Ohana
  4. help.geniusplug@gmail.com : Geniusplug Technology : Geniusplug Technology
  5. jannatulparash123@yahoo.com : Jannat Parash : Jannat Parash
  6. jannatulsifa236@gmail.com : jannatul sifa : jannatul sifa
  7. kabirtanzim2@gmail.com : Kabir Mahmud : Kabir Mahmud
  8. jakia0702@gmail.com : Kuashabrita Usha :
  9. nilmubdiol@gmail.com : Md Mubdiul Islam : Md Mubdiul Islam
  10. mituakter54402@gmail.com : Mehreen Mitu :
  11. engr.romansarkar@gmail.com : romanbd :
  12. afrinsabrin2019@gmail.com : SABRIN AFRIN :
  13. jannatul.sifa@yahoo.com : Shahjadi Mukti :
  14. soyboliny@gmail.com : Shifat Afrin Semu : Shifat Afrin Semu
  15. suchonaislam23@gmail.com : Shuchona Islam :
  16. ummayjahan3@gmail.com : Tanzina Mim : Tazina MIm
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

যাকাত দেবার সঠিক নিয়ম যা জানা জরুরি

  • প্রকাশিতঃ সোমবার, ১৮ মে, ২০২০
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

যাকাত দেবার সঠিক নিয়ম রয়েছে । ইসলামী শরিয়তের একটি অন্যতম স্তম্ভ ও ফরজ বিধান হচ্ছে যাকাত। ঈমানের পর মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো নামাজ ও যাকাত। যাকাতের অর্থ বিশুদ্ধকরণ বা পবিত্র করা। যাকাত দিলে মানব জাতির সম্পদ পরিশুদ্ধ হয়।যাকাতের যথাযথ প্রয়োগে সামাজিক মানুষের মধ্যে বন্ধন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।কেউ যখন ১০০ টাকা আয় করেন, তখন এর পুরোটার মালিক সে নিজে হতে পারে না। তার এই ১০০ টাকায় গরিবের হক থাকে আড়াই টাকা। এই আড়াই টাকা প্রাপ্য হকদারকে দিতে হবে। তবেই বাকি টাকা বিশুদ্ধ হবে । সরকারকে কর না দিলে যেমন আপনার উপার্জিত টাকা কালো টাকায় রুপান্তর হয়, তেমনি যাকাত না দিলে আপনার সম্পদ অপবিত্র হয়ে যাবে।

সালাত-যাকাতের আদেশ কোর’আন মাজিদে বহু স্থানে করা হয়েছে। আল্লাহ পাকের অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ সওয়াব, মাগফিরাত ও রহমতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “তোমরা সালাত আদায় করো এবং জাকাত প্রদান করো। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে,তা আল্লাহর নিকটেই পাবে।নিশ্চয় তোমরা যা করো,আল্লাহ তা দেখছেন” [সূরা- বাকারা;আয়াত- ১১০]। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যাকার কে দেবেন, কাকে দেবেন, কিভাবে দেবেন , সম্পদ গুলোতে যাকাত ফরজ হয় যেমন, সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা ও ব্যবসায়িক পণ্য—এই চারটি জিনিসের ওপর যাকাত আসে।আবার কিছু জন্তুর ওপরও যাকাত আসে।

সাধারণত ওই সব জন্তুর ওপর যাকাতকে ফরজ হবার জন্য প্রযোজ্য শর্তাসমূহ আমাদের দেশে পাওয়া যায় না।★সোনা-রুপা যে কোন অবস্থায় ই থাকুক না কেন, সেটা যাকাতযোগ্য সম্পদ হিসেবে ধরতে হবে। এখন সেটা বিস্কুট আকারে থাকুক বা মুদ্রা হিসেবে থাকুক নতুবা অলংকার হিসেবে থাকুক বা পাত্র হিসেবে থাকুক। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৩৯৪)★সোনা-রুপা ছাড়া অন্য সব ধাতুর অলংকার যত মূল্যবানই হোক না কেন, ব্যবসার নিয়ত ব্যতীত তা যাকাতযোগ্য সম্পদ হিসেবে ধরা হবে না। (আহকামে জাকাত : পৃ. ১৯, ইমদাদুল ফাতাওয়া : ২/০৭) অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো—সোনা-রুপা, নগদ টাকা ও ব্যবসায়িক মালামাল ছাড়া যত সম্পদ রয়েছে তা যত দামি ই হোক না কেন, তার ওপর যাকাত আসে না। সোনা-রুপা ছাড়া যেকোনো সম্পদ যখন তা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয় তখন যাকাতযোগ্য সম্পদ হিসেবে ধরতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/১৮০)।

যাদের উপর যাকাত ফরজ নয়ঃযাকাতের নিয়ম নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে।১.সাড়ে সাত তোলা পরিমাণ স্বর্ণ যার কাছে থাকে। ২.সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা যার কাছে থাকে।৩. সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার যে’কোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ টাকা-পয়সা বা ব্যবসার মালামাল যার কাছে থাকে। ৪.যাকাতযোগ্য চারটি (সোনা, রুপা, টাকা-পয়সা ও ব্যবসায়িক মাল) সম্পদই যার কাছে থাকে, যার সমষ্টিগত মূল্য উপরোক্ত পরিমাণ সোনা বা রুপার যেকোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ হয়।৫.জাকাতযোগ্য যেকোনো তিনটি বা দুটি সম্পদ যার কাছে থাকে অর্থাৎ যার সমষ্টিগত মূল্য উপরোক্ত পরিমাণ সোনা বা রুপার (সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা) যেকোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ হয়, তবে যাকাত দেবার উপযুক্ত হিসেবে তাকে ধরা হয় এবং বছর অন্তর তার ওপর জাকাত ফরজ হবে। (আল-ফিকহুল ইসলামী : ২/৬৬৯; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস ৭০৮১)।

যাদের যাকাত দেবেনঃ দরিদ্র ব্যাক্তি,যারা ভিক্ষা করে খায়, গরীব-মিসকিন লোককে জাকাত দিতে হবে। সামর্থ্যবানদের যাকাত দেওয়া যাবে না।সামর্থ্যবান তথা ধনী দুই প্রকার।১. যার যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে। এবং সেটির এক বছর অতিবাহিত হয়েছে।২. যার ওপর যাকাত ওয়াজিব হয়নি , তবে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত এমন সম্পদ রয়েছে, যার মূল্য যাকাতের নেসাবের মূল্যের সমান। এমন লোকের ওপর যাকাত ওয়াজিব নয়, তবে সদকায়ে ফিতর ও কোরবানি ওয়াজিব। উপরোক্ত দুই প্রকার ধনীকেই জাকাত দেওয়ার নিয়ম নেই।কোনো বিধর্মী কে  যাকাত দিলে তা আদায় হবে না। ঋণী ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যায়। তবে শর্ত আছে, ওই ঋণী ব্যক্তির ঋণ আদায়ের পর যেন নিসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে। যাদের মাধ্যমে সে দুনিয়াতে এসেছে, যেমন মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, পরদাদা-পরদাদি—এভাবে যত ওপরে উঠবে তাদেরকে যাকাত দেওয়া যায় না।ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি, পোত-পুতনি—এভাবে যত নিচে নামবে। অর্থাৎ তার মাধ্যমে যারা দুনিয়াতে এসেছে তাদের কেও যাকাত দেওয়া যায় না। দুধ-মা, দুধ-সন্তান ও পালিত করেছে যে পিতা, তাদের যাকাত দেওয়া যায়। সত মা, সত পিতা ও সৎসন্তানকে যাকাত দেওয়া জায়েজ আছে।

মুসাফির যখন অন্য দেশে নিরুপায় হয়ে পড়ে, বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছতে অক্ষম হয়ে পড়ে, তখন তাকে যাকাত দেওয়া যায়, যথাপি সে বাড়িতে খুব ধনী হয়। জাকাতের অর্থ জনকল্যাণমূলক কোন কাজে ব্যয় করলে যাকাত আদায় হবে না। যেমন—রাস্তা – পুল নির্মাণ, কূপ স্থাপন করা ইত্যাদি।ভাই-বোন, চাচা-চাচি, মামা-মামি, খালা-খালু, ফুপা-ফুপি, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাতিজা-ভাগনি যদি গরিব হয় তবে তাদের যাকাত দেওয়া যায়। (হিদায়া : ১/২০৬; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/১৮৮-১৮৯, তাতারখানিয়া : ৩/২০৬, দুররুল মুখতার : ৩/২৯৪-২৯৫)কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও যাকাতের হুকুমঃশেয়ার মার্কেট : শেয়ার ক্রয় করে যারা, তাঁরা মূলত দুটি উদ্দেশ্যে শেয়ার ক্রয় করে ।১.বার্ষিক লভ্যাংশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে শেয়ার ক্রয় করে থাকেন অর্থাৎ কোম্পানির শীর্ষ পর্যায় থেকে যে লভ্যাংশ ঘোষণা হবে তা-ই তাদের উদ্দেশ্য।২.যারা শেয়ারকে অন্যান্য পণ্যের মতো লাভ করার আশায় কেনা-বেচা করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য থাকে,পছন্দসই দাম পেলেই তা বিক্রি করে দেবেন। বার্ষিক লভ্যাংশ তাদের মূল উদ্দেশ্য থাকে না।উপরিউক্ত দুই শ্রেণির শেয়ারহোল্ডারের যাকাতের হুকুম ভিন্ন ভিন্ন।প্রথম শ্রেণির শেয়ার ব্যবসায়ীরা শেয়ারের বর্তমান বাজার দরের ওপর যাকাত আদায় করবেন। ফেইস ভ্যালুর ওপর নয়। অর্থাৎ যেদিন তার যাকাতের অর্থ বছর পূর্ণ হবে, সেদিন ওই শেয়ারের মার্কেট ভ্যালু কত, তার ওপর যাকাত আদায় করবে।

আর দ্বিতীয় শ্রেণির শেয়ার ব্যবসায়ীরা প্রথমে  ব্যালেন্সশিট দেখে কোম্পানীর স্থায়ী সম্পদ ও যাকাতযোগ্য সম্পদের অনুপাত বের করবেন। কোম্পানির স্থায়ী সম্পদ হলো বিল্ডিং, ম্যাশিন, জমি, গাড়ি ইত্যাদি। অর্থাৎ যেসব সম্পদ বিক্রি করা হয় না। আর যাকাতযোগ্য সম্পদ হলো নগদ টাকা, ব্যবসায়িক সামগ্রী ও বিভিন্ন পর্যায়ের কাঁচামাল ইত্যাদি। তারপর কোম্পানির মোট সম্পদের যত পার্সেন্ট জাকাতযোগ্য হয়, সে তার শেয়ারের বাজারদরের তত পার্সেন্টের জাকাত আদায় করবে। (ফিকহি মাকালাত : ১/১৫৫; জাদিদ ফিকহি মাসায়িল : ১/২১২; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ১৪/১৩৬) বন্ডের যাকাত : বন্ড হচ্ছে মূলত ঋণের সার্টিফিকেট। বন্ডসহ যাবতীয় অর্থনৈতিক সনদের যাকাত আদায় করা ওয়াজিব। কেননা এগুলো নগদ অর্থের সমান। (আহকামে জাকাত : ১৬)।

প্রভিডেন্ট ফান্ডের যাকাত : সরকারি বা বেসরকারি চাকরি’জীবীদের বেতন থেকে জিপি বা সিপি ফান্ডের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে যে অংশ কেটে রাখা করা হয়, তা উত্তোলনের আগে চাকরিজীবীর মালিকানায় আসে না। তাই ফান্ডে থাকার সময় ওই টাকার ওপর যাকাত আসবে না। আর যেসব চাকরিজীবী (সরকারি বা বেসরকারি) বাধ্যতামূলকের পাশাপাশি নিজ ইচ্ছায় টাকা রাখেন বা পুরোটাই নিজের ইচ্ছায় রাখেন বা সে নিজ উদ্যোগে ওই ফান্ডের টাকা অন্য কোনো ইনসুরেন্স কোম্পানিতে স্থানান্তর করিয়ে নেন, তাঁদের ওই ফান্ডের টাকা যাকাতযোগ্য সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে। কজেই তিনি নেসাবের মালিক হলে ওই টাকারও যাকাত আদায় করতে হবে। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/২৬০; ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/৩০৬)। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এ গচ্ছিত টাকার যাকাত :ব্যাংকের ব্যক্তিমালিকানাধীন সব ধরনের অ্যাকাউন্টে এর গচ্ছিত টাকা যাকাতযোগ্য। সেটা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট হোক বা সেভিংস অ্যাকাউন্ট হোক বা ফিক্সড ডিপোজিট হোক না কেন অথবা দীর্ঘমেয়াদি ডিপোজিট হোক বা স্যালারি অ্যাকাউন্ট হোক, সব অ্যাকাউন্টের যাকাত আদায় করতে হবে, যদি সে নেসাবের মালিক হয়। (ফাতাওয়া আলমগিরি : ১/২৭০; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ৩/৫৭)

ইম্পোর্টকৃত পণ্যের যাকাত : ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য ইম্পোর্ট করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে যেসব পণ্য তাদের মালিকানায় আছে, তার বাজারদরের ওপর যাকাত আদায় করবেন, যদিও ওই পণ্য রাস্তায় থাকার কারণে তার হাতে না আসে। আর যদি পণ্য তার মালিকানায় না আসে,বরং টাকা ইনভেস্ট করেছে কিন্তু এখনো পণ্যের ক্রয়চুক্তি হয়নি, তবে শুধু ইনভেস্টকৃত টাকার যাকাত আদায় করবে। (জাদিদ ফিকহি মাসায়িল)এখানে শ কিছু মাসআলার মৌলিক দিক তুলে ধরা হয়েছে কেবল। আরও ভালোভাবে জানতে কোনো অভিজ্ঞ আলেমের সঙ্গে কথা বলে নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। আল্লাহ’তায়ালা আমাদের সবাইকে যাকাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধান পালনে সামর্থক হওয়ার তাওফিক দান করুন। যাকাত দেবার নিয়ম সম্পর্কে বুঝ দান করুক ,আমীন।

সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টটি শেয়ার করুন।

এই ক্যাটাগরির আরও পোষ্ট
© All rights reserved © 2020 bdnews99.com