1. asmaakter99987@gmail.com : Asma Akter : Asma Akter
  2. jannatulsifa9486@gmail.com : BD NEWS 99 :
  3. ohanafariah8@gmail.com : Fariah Jalal Ohana : Fariah Jalal Ohana
  4. help.geniusplug@gmail.com : Geniusplug Technology : Geniusplug Technology
  5. jannatulparash123@yahoo.com : Jannat Parash : Jannat Parash
  6. jannatulsifa236@gmail.com : jannatul sifa : jannatul sifa
  7. kabirtanzim2@gmail.com : Kabir Mahmud : Kabir Mahmud
  8. jakia0702@gmail.com : Kuashabrita Usha :
  9. nilmubdiol@gmail.com : Md Mubdiul Islam : Md Mubdiul Islam
  10. mituakter54402@gmail.com : Mehreen Mitu :
  11. engr.romansarkar@gmail.com : romanbd :
  12. afrinsabrin2019@gmail.com : SABRIN AFRIN :
  13. jannatul.sifa@yahoo.com : Shahjadi Mukti :
  14. soyboliny@gmail.com : Shifat Afrin Semu : Shifat Afrin Semu
  15. suchonaislam23@gmail.com : Shuchona Islam :
  16. ummayjahan3@gmail.com : Tanzina Mim : Tazina MIm
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন

মশাও মানুষভেদে কামড় দেয় রহস্য জানলে অবাক হবেন আপনি

  • প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে

মশাও মানুষভেদে কামড় দেয়। এর রহস্য জানলে, অবাক হবেন আপনিও। মনে করুন আপনি আর আপনার বন্ধুরা কোন এক সন্ধ্যায় জলাশয় কিংবা ডোবার সামনে গল্প করছেন। হঠাৎ ই কিছু মশা আপনাকে জ্বালিয়ে খাচ্ছে।আপনি বারবার নড়াচড়া করছেন। এক পর্যায়ে বন্ধুরা বিরক্তির সুরে বললো, কই তোকেই সব মশা কামড় দেয়, আমাদের তো কামড় দেয় না। প্রশ্নের জবাবে হতভম্ব আপনি। কিন্তু এর ও যে বৈজ্ঞানিক কারণ আছে, তা আপনাকে জানতে হবে। তাহলেই সেই প্রশ্নের উত্তর আপনি জানতে পারবেন এবং বলতে পারবেন । এখন সে গবেষণায় যাবার আগে চলুন, মশা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

মশা হচ্ছে প্রাণীজগতের সবচেয়ে বড় পর্ব আর্থ্রোপোডার মাছি বর্গের অন্তর্ভুক্ত প্রাণী। মশার ইংরেজি নাম হচ্ছে Mosquito. স্প্যানিশ শব্দ Mosca এবং  Diminutive শব্দ দুটি থেকে Mosquito শব্দটি এসেছে। Mosca শব্দের অর্থ হলো ক্ষুদ্র এবং Diminutive শব্দের অর্থ হচ্ছে, মাছি। অর্থাৎ Mosquito শব্দটির অর্থ হচ্ছে ছোট মাছি, অথবা উড়তে সক্ষম এমন কোনো ছোট পতঙ্গ।মশাজাতীয় এই পতঙ্গের প্রথম দেখা পাওয়া যায়, কানাডায় এক টুকরা অ্যাম্বরের ভেতরে। অ্যাম্বর হলো এক ধরনের ছোট গাছ বিশেষ। যার মধ্যে তথা যার শরীর থেকে এক ধরনের কেলাসিত আঠালো পদার্থ বের হয়। এবং সেই কেলাসিত আঠালো পদার্থ অক্ষত থাকে লক্ষ লক্ষ বছর। অ্যাম্বরের এই ছোট টুকরোর ভেতর একটি মশাজাতীয় প্রাণী আটকে যাবার পর পতঙ্গটি অক্ষত থেকে যায় প্রায় ৭৯ মিলিয়ন বছর বা ৭.৯ কোটি বছর।

বার্মিজ এ এক টুকরো অ্যাম্বরের ভেতর কিছু বিজ্ঞানী প্রগৈতিহাসিক এক মশার জাত উদ্ভাবন করেন। বিজ্ঞানীরা গবেষনা করে এর বয়স নির্ণয় করেন ৯০-১০০ মিলিয়ন বছরের মতো। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন মশার পূর্ব পুরুষদের উদ্ভাবন আরও অনেক আগে হয়েছে। কোন প্রকার জীবাশ্ম  ছাড়াই বিজ্ঞানীরা অনুমান  করেছেন যে, আজ থেকে ২২৬ বছর আগে মশাদের পূর্ব পুরুষদের উদ্ভব ঘটেছিল।এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে প্রায় ৩৫০০ প্রজাতির মশার আবিষ্কার রয়েছে। গঠনগত দিকে থেকে একই রকম হলেও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের আলোকে তারা ভিন্ন পরিচয় বহন করে। তবে এদের মধ্যে বেশিরভাগ প্রজাতির মশারাই প্রাণীর র’ক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে।এদের মধ্যে আবার সবাই যে স্তন্যপায়ী প্রাণীর র’ক্ত চোষে এমনটা না।  কিছু প্রজাতি স্তন্যপায়ী প্রাণীর র’ক্ত, কিছু প্রজাতি সরীসৃপ বা উভচর প্রাণীর র’ক্ত, কিছু প্রজাতি আবার পাখির র’ক্ত খেয়ে বেচে থাকে৷এমনকি কিছু প্রজাতির মশা মাছের র’ক্ত খেয়েও দিনাতিপাত করে।

মশাদের মধ্যে শুধু স্ত্রী জাতির মশাই র’ক্ত শোষণ করে থাকে। কারণ বংশবিস্তার,  ডিম পারা তথা সন্তান জন্ম দেবার জন্য তাদের শরীরে প্রোটিন এর প্রয়োজন হয়। প্রাণির র’ক্ত থেকে তারা তাদের প্রয়োজনীয় এ প্রোটিন সংগ্রহ করে থাকে। মশাদের মধ্যে যারা প্রাণীর র’ক্ত শোষণ করে না, তারা উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।  উদ্ভিদের ফুল, পাতা, ডাল থেকে তারা রস সংগ্রহ করে। এবং এ রস থেকেই তারা তাদের শরীরের সকল প্রয়োজন পূরণ করে থাকে।মশার শরীর এবং বিংশবিস্তারঃমশারের শরীরে থাকে অনেকগুলো পা বা উপ-পা এবং থাকে, লম্বা একটি শুড়। এই শুড় দিয়েই মশা র’ক্ত শোষণ করে থাকে। মশার মাথায় একজোড়া এন্টেনা থাকে, যা সে সংবেদি তথ্যের রিসেপশন হিসেবে কাজে লাগায়। স্ত্রী মশাদের তুলনায় পুরুষ মশাদের মাথা অধিক লোমশ হয়ে থাকে।

মশা বংশবিস্তারের জন্য জলীয় স্থান যেমন, বন্ধ পানি, ডোবা,জলাশয়,ড্রেন, হ্রদ, পামির কাছাকাছি যায়গা এবং জলজ উদ্ভিদকে  বেছে নেয়। পুরো জীবনচক্রে একটি স্ত্রী মশা ১০০-২০০ টির মতো ডিম পাড়তে পারে।ডিম পারার পরেও স্ত্রী মশারা ১ মাসের মতো বেচে থাকতে পারে। অন্যদিনে পুরুষ মশারা সর্বোচ্চ ৫-৭ দিন পর্যন্ত বাঁচতে পারে। তবে মশাদের জীবনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্ত্রী মশারা ১ সপ্তাহ থেকে ২ সপ্তাহের মতো বাঁচে।মশার কামড় দ্বারা যে সমস্ত রোগ ছড়ায়ঃসব মশা রোগজীবাণু ছড়ায় না। তবে কিছু বিষাক্ত মশা আছে, যাদের কামড়ে হতে পারে বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাই। সং’ক্রমিত  মশাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, এডিস মশা।জীবানুবাহী এই মশাদের দ্বারা হতে পারে, ডেঙ্গু,  চিকনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া,ফাইলেরিয়া, জিকা ভাইরাস,পীতজ্বর প্রভৃতি রোগ।

যে স্থানে মশা কামড় দেয়, সেই যায়গাটা কেমন লালচে দেখা যায় এবং যায়গাটা চুলকায়। এই কারণ হলো,মশা যখন আমাদের শরীরে তার শুড় ঢোকায়, তখন তার শুড়ের মধ্যে এক ধরনের লালা লেগে থাকে। এই লালা আমাদের শরীরে লাগলে ওই যায়গাটা চুলকায় এবং চুলকানোর ফলে যায়গাটা লাল হয়ে যায়।নতুন নতুন রোগের আবির্ভাব করে মশাঃআমরা আগেই জেনেছি, সব মশারা সং’ক্রমক হয় না। কিছু কিছু জীবানুবাহী মশা সং’ক্রমণ ছড়ায়। যেমন এডিস মশার কামড়ে,  ডেঙ্গু রোগ হয়। আবার ঐ ডেঙ্গু রোগীকে সাধারণ কোন মশা কামড় দিয়ে সেই মশা অন্য সুস্থ মানুষকে কামড় দিলে সেই মানুষটিও ডেঙ্গু আ’ক্রান্ত হয়।

সাধারণত যেসব মশারা জীবানু ছড়িয়ে থাকে, সেই মশা গুলো বনে জঙ্গলে বাস করে থাকে। যখন কোন কারণে এই বন জঙ্গল উজাড় করা হয়,কিংবা গাছ পালা কাটা হয়, বন পুড়ে যায়, তখন এই মশা গুলো লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।এই মশাগুলোকে বলা হয় চলক মশা। চলক মশারা তাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস বহন করে থাকে। লোকালয়ে আসার ফলে এই মশা মানুষের শরীরে কামড় বসায়, এবং মানুষ বিভিন্ন ভাইরাস দ্বারা আ’ক্রান্ত হয়।এবং একজন থেকে আরেকজন মানুষ আ’ক্রান্ত হয়।মশারা কী সব মানুষকে সমভাবে কামড় দেয়?আমাদের সকলের কাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন ছিল,মশা সবার শরীরে সমান ভাবে কামড় বসায় কি’না। উত্তর হবে, না। মশা সবার গায়ে একই রকম কামড় বসায় না। তারা তাদের পছন্দসই শিকার কেই কামড় দেবার জন্য বেছে নেয়।

জানা আছে যে, মশাদের মাথার কাছে আছে একজোড়া এন্টেনা। হ্যা, এই এন্টেনার সাহায্যেই মশারা তাদের প্রিয় শিকারকে বেছে নেয়। প্রায় ১০০ ফুট দূর থেকে তারা তাদের শিকার এর শরীরের র’ক্তের ঘ্রাণ নিতে পারে। লোকে বলে,যাদের র’ক্ত মিষ্টি মশা তাদের বেশি কামড় দেয়।ব্যাপার টা আসকে তাও না৷ মানুষের শরীরে মোট ৪ টি গ্রপের র’ক্ত আছে। সেগুলো হলো অ, ই, অই এবং ঙ। মশারা সবচেয়ে বেশি ঙ গ্রুপের র’ক্তের মানুষদের পছন্দ করে। এবং সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে অ গ্রুপের র’ক্ত বহনকারীদের।এছাড়াও মশারা কার্বন-ডাইঅক্সাইড এর ঘ্রাণের মাধ্যমে তাদের শিকার করে থাকে। মানুষ তার নিশ্বাস ত্যাগ করার সময় তাদের শরীর  থেকে কার্বন-ডাইঅক্সাইড বের হয়। সেই ঘ্রাণে আকৃষ্ট হয়েই মশারা কামড় বসায় মানুষের গায়ে। এক্ষেত্রে ছোট বাচ্চারা কম আকৃষ্ট হয়।

কারণ তাদের ফুসফুস ছোট হবার কারণে শরীর থেকে বেশি কার্বন-ডাইঅক্সাইড বের হয় না। ফলে মশাও এতো কামড় দেয় না।আবার মানুষের শরীরের ঘামও মশাকে কমড়াতে আকৃষ্ট করে। যাদের শরীরে বেশি ঘাম হয়, তাদেরকে মশা বেশি কামড় দেয়। যাদের শরীরে ল্যাক্টোজনের মাত্রা বেশি তাদেরও মশা বেশি আকর্ষণ করে।অর্থাৎ তাদেরকে মশা বেশি কামড় দেয়।র’ক্তের ঘ্রাণ, কার্বন-ডাইঅক্সাইড,  ঘামের ঘ্রাণ , ল্যাক্টোজ এর মাত্রা এসবই মশা নির্ধারণ করে থাকে তার মাথায় থাকা এন্টেনা দ্বারা।

সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টটি শেয়ার করুন।

এই ক্যাটাগরির আরও পোষ্ট
© All rights reserved © 2020 bdnews99.com