1. asmaakter99987@gmail.com : Asma Akter : Asma Akter
  2. jannatulsifa9486@gmail.com : BD NEWS 99 :
  3. ohanafariah8@gmail.com : Fariah Jalal Ohana : Fariah Jalal Ohana
  4. help.geniusplug@gmail.com : Geniusplug Technology : Geniusplug Technology
  5. jannatulparash123@yahoo.com : Jannat Parash : Jannat Parash
  6. jannatulsifa236@gmail.com : jannatul sifa : jannatul sifa
  7. kabirtanzim2@gmail.com : Kabir Mahmud : Kabir Mahmud
  8. jakia0702@gmail.com : Kuashabrita Usha :
  9. nilmubdiol@gmail.com : Md Mubdiul Islam : Md Mubdiul Islam
  10. mituakter54402@gmail.com : Mehreen Mitu :
  11. engr.romansarkar@gmail.com : romanbd :
  12. afrinsabrin2019@gmail.com : SABRIN AFRIN :
  13. jannatul.sifa@yahoo.com : Shahjadi Mukti :
  14. soyboliny@gmail.com : Shifat Afrin Semu : Shifat Afrin Semu
  15. suchonaislam23@gmail.com : Shuchona Islam :
  16. ummayjahan3@gmail.com : Tanzina Mim : Tazina MIm
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন

লকডাউন আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত লকডাউনকে ব্রেকডাউন

  • প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০
  • ২৮ বার দেখা হয়েছে

করোনাভাইরাস মহামারীতে লকডাউন এর আজ ৬১ তম দিন।দেশের ৬০ টি জেলার মানুষ আজ গৃহবন্দি জীবন যাপন করছে।করোনাভাইরাসের এই বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের সুফল যেমন রয়েছে তেমনি দেশব্যাপী মানুষের এই অচলাবস্থার জন্য লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।বাংলাদেশের প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে মাদারীপুরে। এরপর ১৯ শে মার্চ শিবচর উপজেলা লকডাউন করা হয়।তারপর একের পর এক অঞ্চলে বাড়তে থাকে করোনা রোগীর সংখ্যা।

লকডাউন আসলেই কাজ করছে কী!?লকাডাউন ব্যাবস্থা গ্রহণের পর তা আমাদের বড় ধরনের বিপদ থেকে বাঁচিয়েছে। লকডাউন সংক্রমণ ঠেকাতে যে আসলেই কার্যকর একটি পদক্ষেপ, তার অন্যতম দৃষ্টান্ত হতে পারে ঢাকার মিরপুরের টোলারবাগ।পুরোদেশে যখন সরকারি ছুটি ঘোষণা হয়নি, তখন থেকেই রাজধানীর টোলারবাগ এলাকা লকডাউন করা হয়। আইইডিসিআর এর সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায় সমগ্র ঢাকা যখন ভাইরাসের সংক্রমণে একাকার , সেখানে ১২ই এপ্রিলের পর টোলারবাগ এলাকায় কেউ এই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, শিবচর, টোলারবাগের মতো যে যে এলাকায় যথাযথভাবে লকডাউন পালিত হয়েছে সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে।

নির্দেশনায় আছে গণজমায়েত করা যাবে না, গণসমাবেশ করা যাবে না, মসজিদে না গিয়ে বাসায় নামাজ পড়তে হবে। অনেক জায়গায় বাস্তবায়ন ভালভাবে হয়েছে যেমন টোলারবাগ, বাসাবো এবং মাদারীপুর।আবার অন্যদিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এবং কিশোরগঞ্জে সাধারণ ছুটি বা লকডাউনের মধ্যেই সংক্রমণ বেশি হয়েছে। যে কারণে সাধারণ ছুটি কতোটা কার্যকর সেটি নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন।গত দু’মাসের বেশি সময় যাবত সারাদেশের গণপরিবহন, অফিস আদালত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ তাই ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনীতি সচল করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে এসেছে।

লকডাউনের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি ব্যাপক হারে বাড়ছে।করোনাভাইরাসের এই বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর লকডাউনের সফলতা যেমন আছে তেমনি এর অর্থনৈতিক ক্ষতিও বহুমাত্রিক বিদ্যমান।২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাংলাদেশে ৮.২ শতাংশ হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু গত মাসে বিশ্বব্যাংক এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে যে প্রবৃদ্ধি কমে ২-৩ শতাংশ হতে পারে।বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে এই মহামারি যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলে এবং সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে চলে যায় তাহলে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে যা বাংলাদেশে -৫.২ পর্যন্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এর অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ আশংকা করেন যে করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে।যা আমাদের অগ্রগতির ক্ষেত্রে মারাত্মক অন্তরায়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে লকডাউনের ক্ষতির এই মুহূর্তের যে হিসাব সেটার সাথে সাথে আমাদের আগামীর ক্ষতিটাকেও বিবেচনায় আনতে হবে।এ সময় যত বিনিয়োগ হতে পারতো, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চললে সেগুলো থেকে যা অর্জন করা যেত, সেগুলো হবে না। এবং এ কারণেই ক্ষতির পরিমাণ থেকেও আমি মনে করি যে এর ব্যাপ্তি এত ব্যাপক পরিসরের হবে যে, সেটা চিন্তার ব্যাপার।

আমেরিকা,ইতালি,চীন,রাশিয়ার মতো উন্নত দেশগুলো যেখানে লকডাউন না তুলে আর পারছে না,সেখানে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কতোটা ভয়ানক হতে পারে তা কল্পনাতীত।বাংলাদেশে সাধারণ ছুটিতে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চাকা স্থবির হয়ে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের হিসেব মতে সাধারণ ছুটির একমাসে দেশের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ২ হাজার ৩শ কোটি টাকা। যা দৈনিক কমপক্ষে ৩৩০০ কোটি টাকা। আর এই ছুটির সময় এখন চলছে,দুই মাসেরও বেশি।সেক্ষেত্রে গানিতিক হারে ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে।কৃষি, মৎস ও প্রাণিসম্পদ খাতে অবরুদ্ধ অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে প্রতিদিন দু’শ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে, শিল্প অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার একশত একত্রিশ কোটি টাকা।

তবে সেবা খাতে অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। প্রতিদিনের ক্ষতি হচ্ছে ২০০০ কোটি টাকা।এছাড়াও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নিজস্ব হিসেব মতে সারাদেশে ৫৬ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানে দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৭৪ কোটি টাকা।যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো ক্ষতির হিসাব প্রকাশ করা হয়নি, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বিবিসিকে জানিয়েছে যে তারা আর্থিক ক্ষতির একটা হিসাব করছেন সেটি শিগগিরই জানানো হবে।

তবে এটাও বলা উচিৎ আমরা যদি যথাযথ ভাবে পরিশ্রম করতে পারি তাহলে এ ক্ষতি কিছুটা হলেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির সাহায্য নিয়ে দ্বিগুন পরিশ্রম আমাদের করতে হবে।আমরা গত কয়েকবছর যেটা অর্জন করেছি, সেটা আমরা হারাতে চাই না, এটা আমাদের জন্য যথেষ্ট কষ্টের হবে।করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির সার্বিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন খাতের জন্য বরাদ্দ এই অর্থ স্বল্প সুদে ঋণ হিসেবে দেয়া হবে।যথা স্থানে এই ঝণ সমভাবে বন্টন করতে হবে।বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের জন্য এই ঋণ অনেক উপযোগী হবে।লকডাউন পরিস্থিতি ততদিন পর্যন্তই মেনে নেওয়া সম্ভব যতদিন মানুষ তার পেটে ২ বেলা নুন্যতম খাবার দিতে পারছে। অন্যথায় নিম্নবিত্ত খেটে-খাওয়া মানুষগুলো তাদের সত্তা হারাবে।তারা খারাপ পন্থা অবলম্বন করবে।

সরকারের নেওয়া লকডাউনের সিদ্ধান্ত দেশকে কোনও জাদুবলে চটজলদি কোভিড মুক্ত করতে পারবে না, আবার লকডাউন তুলে দিলেই যে অর্থনীতি হঠাৎ করে আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ হাতে উদিত হবে এমনটাও নয়। তবু এর মধ্যে একটুকরো রোদের ফালি— আমাদের দেশে সংক্রমণের সংখ্যা এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে। পিছিয়ে থাকা দেশে নিম্নবিত্ত মানুষদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই আমাদের অজানা স্ট্যাটিস্টিক্স, লেখচিত্র যার নাগাল পায় না।সর্বোপরি এটাই বলতে চাই,লকডাউন আমাদের পরিস্থিতি মোকাবেলায় যথার্থ উপযোগী পদক্ষেপ।তবে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ যায়গায় একে নিয়মে এনে আগের মতো করে দেওয়া উচিত।জনগণের মাঝে যথেষ্ট নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দিয়ে,আইন শৃঙখলা বাহিনীর যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কিছু কর্মক্ষেত্র সচল রাখতে হবে।

দেশের মানুষকে দ্রুত ডিজিটালাইজ এর এখনি সময়।এজন্য বাধ্যতামূলক কিছু ব্যাবস্থা এবং এসব কিছুর সহজলভ্যতা করা উচিত।কেনাকাটা,শিক্ষা দিক্ষা,ডিজিটাল প্লাটফর্মে চাকরি,ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য জনগনকে উদ্যোগি হতে হবে।যে কাজ গুলো একান্ত বাইরে বের হওয়া ছাড়া করা যায় না, সে ক্ষেত্র গুলোতে লকডাউন উঠিয়ে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে তথা ব্যাবসা বানিজ্যে ডিজিটাল পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগ হলেই কেবল এ লকডাউন প্রকৃতপক্ষে উপকারি হবে আমাদের জন্য। সবসময় আমাকের একটাই মনোভাব থাকতে হবে, “Breakdown the Lockdown being digital”

সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টটি শেয়ার করুন।

এই ক্যাটাগরির আরও পোষ্ট
© All rights reserved © 2020 bdnews99.com